বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যে। তাই এখন থেকেই ২০২৬ কে টার্গেট করে ময়দানে নেমে পড়েছে শাসকদল থেকে শুরু করে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি। এই অবস্থায় ফের নবান্নে বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত উন্নয়নের কাজ দ্রুত শেষ করতে আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, চলতি বছরে কোন কোন প্রকল্পে কী কাজ হয়েছে, কোন ক্ষেত্রে অগ্রগতি বা ঘাটতি রয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট ইতিমধ্যেই তৈরি করতে বলা হয়েছিল প্রতিটি দপ্তরের সচিবদের। সেই রিপোর্ট নিয়েই আজ, মুখ্যমন্ত্রী পর্যালোচনা করবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
অন্যদিকে গত সোমবার নবান্নের একাধিক প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক ও বিডিওদের সঙ্গে নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সেই বৈঠকে হঠাৎই যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বৈঠক থেকে তিনি বার্তা দেন এসআইআর-এর জন্য বাংলার বাড়ি, রাস্তা-সহ উন্নয়নের কাজ যেন উপেক্ষিত না হয়। সেই নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চাপের মুখে ভয় না পাওয়ার বার্তাও দেন তিনি।
প্রশাসনের অন্দরের খবর, এসআইআরের কাজে তদারকির জন্য কমিশনের পর্যবেক্ষকরা জেলা জেলায় যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে তাই ফের রাজ্যের আধিকারিকদের পাশে থাকার বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় আর্থিক বঞ্চনা সত্ত্বেও জনমুখী প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়া, ঠিক তার অন্যদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির ক্রমাগত অতিসক্রিয়তা । এই দুই এর চাপ সামলে রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্যে দপ্তরগুলিকে আরও সক্রিয় করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। সেই জন্যই তিনি এই বৈঠকে বার্ষিক কাজের হিসেব নিকেশ করে দেখে নিতে চান কোন দপ্তর কতটা কাজ করেছে ও বাজেটে যে টাকা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল, তার কতটা খরচ করা গিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার জেরে জনমুখী প্রকল্পের কাজ যাতে বিঘ্ন না হয়, তা দেখতে আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল নবান্ন থেকে। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চলতে থাকায় কয়েকটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে বলেই নবান্নের কাছে রিপোর্ট এসেছে। যার ফলে এই সমস্ত কিছুই নিজের হাতে সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন এই বৈঠকের আয়োজন করেছেন।





