Header AD
Trending

কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারি প্রকল্পের বিপুল সাফল্য! কাজের খতিয়ান দিয়ে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠক করে গত ১৫ বছরের সরকারি কাজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রকাশ করলেন উন্নয়নের পাঁচালি। ২০১১ সাল থেকে অর্থাৎ গত ১৫ বছরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, গ্রামোন্নয়ন ও নারী কল্যাণ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী অগ্রগতি হয়েছে, তাতে রাজ্যবাসী কতটা উপকৃত হয়েছেন,তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিসংখ্যান এদিন পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘উন্নয়নে পাঁচালি’ উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী বছর মে মাস এলে আমাদের সরকারের ১৫ বছর পূর্ণ হবে। এই সাড়ে ১৪ বছরে আমাদের সরকার কী কী কাজ করেছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরছি। আমরা রাজ্যবাসীর কাছে দায়বদ্ধ।”

বক্তব্যের শুরুতেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন “বাংলা এখন সারা দেশে মডেল।” মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরের নিরিখে রাজ্যের জিডিপি বৃদ্ধি পেয়ে ২০ লক্ষ ৩১ হাজার কোটিতে পৌঁছেছে, কর আদায় বেড়ে ৫.৩৩ গুণ হয়েছে। এছাড়া ক্যাপিটল এক্সপেন্ডিচার বেড়েছে ১৭. ৬৭% , সোশ্যাল সেক্টর এক্সপেন্ডিচার বেড়েছে ১৪.৪৬ শতাংশের বেশি। কৃষি ক্ষেত্রে বেড়েছে ৯.১৬ গুণ। ফিজিক্যাল সেক্টর এক্সপেন্ডিচার বেড়েছে ৬.৯৩ গুণ ।

নবান্ন সভাঘরের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, ২০১১ সালের নিরিখে রাজ্যের কর আদায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে ১০০ দিনের কাজ বা ‘কর্মশ্রী’। এই মুহূর্তে সেই প্রকল্পে কর্মদিবস বেড়ে দাঁড়িয়েছে গড়ে ৭০ দিন। যা কেন্দ্রের তুলনায় বেশি। রাজ্যে ৪০% বেকারত্ব কমেছে বলে দাবি করেন তিনি। এর পাশাপাশি তিনি জানান, গত ১৫ বছরে রাজ্যে গত ১৫ বছরে শিল্প ক্ষেত্রে ২ কোটি কর্ম সংস্থান হয়েছে। রাজ্যে ছ’টি অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। দেউচা পাচামিতে আগামী দিনে আরও ১ লক্ষ কর্ম সংস্থান হবে। তিনি আরও জানান, রাজ্যে মেট্রোর কোচ, লোকাল কোচ, ভারী যন্ত্রপাতি, জাহাজ তৈরি হচ্ছে। সিমেন্ট, ইস্পাত কারখানার কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পে রাজ্যে এক কোটি ৩০ লক্ষের বেশি মানুষ কাজ করছেন। ৪২ লক্ষ ছেলেমেয়েকে স্কিল ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে।” ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল— এই ১০ বছরে তাঁর সরকার রাজ্যের কত জনকে দারিদ্রসীমার বাইরে এনেছেন তার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ১০ বছরে ১ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমার বাইরে আনা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আমরা ১২ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করেছি, যা গোটা ভারতের মধ্যে বাংলা মডেল।” পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৩১ লক্ষ ৭৭ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা ঘরে ফিরেছেন, তাঁদের পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের আমরা শ্রমশ্রী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।”

এরপর রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সাফল্যের বিষয়ে তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন ২ কোটি ২১ লক্ষ মহিলা, যার জন্য খরচ হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। এবার অন্যান্য খাতে সাফল্য ও খরচের পরিসংখ্যান দেখে নেওয়া যাক।
খাদ্যসাথীর সুবিধা পায় ৯ কোটি
স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধাপ্রাপ্ত ২ কোটি ৪৫ লক্ষ পরিবার
দুয়ারে রেশন প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্ত ৭ কোটি ৪১ লক্ষ
অর্থনৈতিক করিডরে কর্মসংস্থান ১ কোটি
বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালিতে ২০০০ সংস্থায় ২ লক্ষ কর্মসংস্থান
আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্প তালুকের ২২০০০ কোটির বিনিয়োগ
ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পে ১ লক্ষ ৩০ লক্ষ
কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি ৯.১৬ গুণ
কন্যাশ্রীর সুবিধাভোগী ১ কোটির বেশি
রূপশ্রীর সুবিধা পেয়েছেন ৫৫৯৮ কোটি
দুয়ারে রেশন ৭ কোটি ৪১ লক্ষ
পরিকাঠামো উন্নয়নে খরচ ৭০ হাজার কোটি
‘বাংলার বাড়ি’ তৈরির টার্গেট ১ লক্ষ
২৩ জেলায় শপিং মল, ৫১৪টি কর্মতীর্থ
গঙ্গাসাগর সেতু তৈরির ব্যয় ১ হাজার ৭০০ কোটি
পথশ্রীর প্রকল্পে ২০ হাজার কিমি রাস্তা তৈরি হয়েছে
২৫টি নতুন চা বাগান তৈরি হয়েছে
কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন ১কোটি ৬০ হাজার কৃষক

সবশেষে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, আপনাদের ধন্যবাদ আমাদের টাকা আটকে রাখার জন্য, কেন্দ্র টাকা বন্ধ করলেও রাস্তা,বাড়ি সব প্রকল্পেই খরচ করছি আমরাই। আমি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করিনা। গণতান্ত্রিক রাজনীতি করি। দেশের সংবিধান মেনে চলি। এখানে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দিইনি। আপনারা এমন কোনও নির্দেশ দেবেন না যাতে মানুষের ক্ষতি হয়। আমরা মানুষের কাছে সংবিধানের কাছে দায়বদ্ধ।”