বাংলায় আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য-রাজনীতি সরগরম। সেই আবহেই এবার বিভিন্ন রাজ্য সরকারি প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে বিরধীদের একহাত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুদিন আগেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন পর্ব শেষ হয়। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য করেছিল নীতীশ কুমারের সরকার। আর সেটাই জয়ের পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেই কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী কতাক্ষের সুরে বলেন, ভোট মিটতেই এখন সেখানে বুলডোজার চালানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, “শুধুমাত্র এককালীন নয়, আমাদের সরকার বছরভর মহিলাদের সাহায্য করে থাকে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে মহিলাদের বছরে ১২ হাজারের বেশি টাকা দেওয়া হয়। তবে শুধু মহিলাদের নয়, লিঙ্গভেদাভেদ না করে ঘরে ফিরে আসা ৩১ লক্ষ ৭২ হাজার পরিযায়ী শ্রমিককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য করেছে রাজ্য সরকার। আএর বিহারে সেখানে ভোটের আগে ১০ হাজার, পরে বুলডোজার।“
মঙ্গলবার নবান্ন থেকে সরকারের উন্নয়নের রিপোর্ট প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই ভোটের আগে বিজেপি ও তার শরীক দলগুলির অর্থসাহায্য দেওয়া নিয়ে বিজেপিকে বিঁধেছেন মমতা। বিহারে ভোটের আগে টাকা দেওয়া নিয়েও নবান্ন থেকে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। বৈঠক থেকে জানিয়েছেন, ঘরে ফিরে আসা শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য করার পাশাপাশি তাঁদের কর্মশ্রী প্রকল্পের অধীনে কাজ দেওয়া হয়েছে। জুড়ে দেওয়া হয়েছে শ্রমশ্রী ও কর্মশ্রী প্রকল্প। তিনি আরও বলেন, “যাঁদের মারধর, অত্যাচার থেকে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছিল, গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, অনেককে আবার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘরে ফিরে আসা সেই ৩১ লক্ষ ৭২ হাজার পরিযায়ী শ্রমিকদের ৫ হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য করা হয়েছে। তাঁদের বাচ্চাদের পড়াশোনার দায়িত্বও নিয়েছে সরকার। “
উল্লেখ্য, দেশজুড়ে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে হেনস্তা, মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। ফিরে আসা সেই সমস্ত শ্রমিকদের জন্যই মুখ্যমন্ত্রী চালু করেছিলেন শ্রমশ্রী প্রকল্প।





