Header AD

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ, রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা! মোদি-পুতিন শীর্ষবৈঠক হায়দরাবাদ হাউসে

দুদিনের সফরে এখন ভারতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির পালম বিমানবন্দরে  পৌঁছন তিনি। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরে, বিশেষত অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে পুতিনের প্রথমবারের ভারত সফর একাধিক কারণে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর দু’দিনের সফর ঘিরে অনেক প্রত্যাশা। আজ শুক্রবার দুই দেশের দুই শীর্ষ স্তরের নেতা বৈঠকের জন্য মিলিত হবেন।  তিন বছর আগে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট পুতিনের এটাই প্রথম ভারত সফর। এবারের সফরে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি ২৩তম রাশিয়া-ভারত বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন পুতিন। শুক্রবার শীর্ষ বৈঠকের আগে পুতিনকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। পরে তিনি নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

 শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্টকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলেন নরেন্দ্র মোদী। এর পরে তাঁরা দু’জনে একসঙ্গে গেলেন মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থল রাজঘাটে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। সেখান থেকে দুই রাষ্ট্রনেতার গন্তব্য দিল্লির হায়দরাবাদ হাউস। এ বারের ৩০ ঘণ্টার ভারত সফরে পুতিনের উপস্থিতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা হতে পারে বলে মনে হচ্ছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। তার মধ্যে অন্যতম, রাশিয়া থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নততর সংস্করণ এস-৫০০ কেনা। এ ছাড়া মস্কোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পন্টসায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণের বিষয়েও সমঝোতা হতে পারে মোদী-পুতিন বৈঠকে। পাশাপাশি পুতিনের প্রস্তাব মেনে যৌথ উদ্যোগে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান ‘সুখোই এসইউ-৫৭’ নির্মাণের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সরকারি সূত্রে খবর। এই বৈঠকে মোদী সরকারের অন্যতম লক্ষ্য থাকবে নয়াদিল্লি-মস্কো বাণিজ্য ঘাটতিতে কিছুটা ভারসাম্য আনা। রাশিয়া থেকে ভারত বিপুল পরিমাণ তেল এবং সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করলেও পুতিনের দেশে রফতানি করা ভারতীয় পণ্যের মূল্য তুলনায় অনেক কম।

রাশিয়ার শিল্প ও কর্পোরেট ক্ষেত্রে ভারতীয় দক্ষ এবং আংশিক দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করাও মোদি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর। ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার পুতিন বলেন, “মহাকাশ গবেষণা, পরমাণুশক্তি, জাহাজ নির্মাণ, বিমান নির্মাণ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের স্বার্থে ভারত এবং রাশিয়া একসঙ্গে কাজ করছে। ভারত এবং রাশিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও আলোচনা করবে।”