দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে প্রায় আট মাস পর বাড়ি ফিরলেন সোনালি বিবি। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে শনিবার বীরভূমের বাড়ি গেলেন তিনি ও তাঁর নাবালক পুত্র। ভারতে ফিরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। সোনালি বলেন, “বাংলাদেশে খুব কষ্টে ছিলাম। ৮ মাসের ওপরে বাংলাদেশে ছিলাম। দিল্লি পুলিশ আমাদের ওপর অমানবিক অত্যাচার করেছিল। আমরা অনেক অনুরোধ করেছিলাম। তারপরও আমাদেরকে বিএসএফকে দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।“ বাংলাদেশের জেলে থাকাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে অর্থ সাহয্য করা হয়েছে বলেও জানালেন তিনি। সূত্রের খবর, সোনালি বিবির সঙ্গে দেখা করতে পারেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিনক্ষণ এখনও স্থির হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই দু’জনের সাক্ষাৎ হতে পারে বলে খবর।
শুক্রবার রাতে মালদহ সীমান্ত দিয়ে সোনালি ও তাঁর ছেলে ভারতে ফিরে এলেও বাড়ি ফিরতে পারেননি। মালদহের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সোনালির শরীরে রক্ত কমে গিয়েছিল। তবে সুস্থই আছেন তিনি। তাঁর সন্তানও সুস্থ রয়েছে। সোনালি অন্তঃসত্ত্বা। তাই মালদহ মেডিক্যালে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। শনিবার সকালে সোনালিকে ছেড়ে দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে থেকে মেয়ে ও নাতিকে আনতে গেছিলেন সোনালির বাবা ভাদু শেখ।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে দিল্লিতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সোনালি বিবি সহ ছজন। ভারতের নাগরিকত্বের সমস্ত বৈধ নথি সঙ্গে থাকলেও ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে তাঁদেরকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ পুলিশ সোনালির নাবালক ছেলে-সহ সকলকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে সেদেশের জেলেই বন্দি ছিলেন তাঁরা। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টে দায়ের হয় মামলা। উচ্চ এবং শীর্ষ আদালত সোনালিদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। তারপরেও টালবাহানা করার অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আদালত মুক্তি দেয় সোনালিদের। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার শুক্রবার সোনালিকে দেশে ফেরায়।
তবে সোনালি ও তাঁর ছেলে দেশে ফিরলেও বাংলাদেশ এখনও আটকে রয়েছেন ৪ জন। তার মধ্যে রয়েছেন সোনালির স্বামী ও সুইটি বিবির পরিবার। সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাই কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল সোনালি-সহ পুশব্যাক করা প্রত্যেককে দেশে ফেরাতে হবে। তবে তা হয়নি। কবে তাঁদের দেশে ফেরানো হবে সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ভাবে কিছু জানা যায়নি। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার শীর্ষ আদালতে জানিয়েছে, তাঁরা মানবিকতার খাতিরে অন্তঃসত্ত্বা সোনালিকে দেশে ফিরিয়েছে। মুখে না বললেও এটা পরিষ্কার পুশব্যাক করানো ভুল ছিল তা তারা মানছে না। আর সোনালি বিবিকে ফেরানো মানে এই নয়, পুশব্যাক করা বাকিদেরও ফেরানো হবে। ইতিমধ্যেই বাকিদেরও দ্রুত ভারতে ফেরানো হোক বলে দাবি তুলেছে তাঁদের পরিবার।





