কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হলেন লিওনেল মেসিকে কলকাতায় আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। শনিবার যুবভারতীতে চরম বিশৃঙ্খলার পর অভিযোগের আঙ্উল ওঠে মূল উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে। দুপুরে ডিজি রাজীব কুমার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, দমদম বিমানবন্দর থেকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শতদ্রুকে। তবে সাংবাদিক সম্মেলনে শতদ্রুর নাম নেননি তিনি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ঘটনাচক্রে পরে একই দাবি তুলেছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। ধুন্ধুমারের মধ্যে তড়িঘড়ি বিমানবন্দর ছেড়ে হায়দরাবাদের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে যান ফুটবলের রাজপুত্র।
ক্রীড়াপ্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শনিবার শহরে পা রেখেছিলেন লিওনেল মেসি। এদিন ঠাসা কর্মসূচি ছিল তাঁর। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুবভারতীতে মেসি দর্শনে এসেছিলেন দর্শকরা। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, যুবভারতীতে ঢোকার পর থেকেই মেসিকে ঘিরে ছিলেন ভিআইপিরা। সেই সংখ্যাটা কম করে ১০০ হবে। ফলে গ্যালারি থেকে ২০ মিনিট মেসিকে দেখাই যায়নি। আর শুধু মেসি নয়, লুইস সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো ডি’পলকেও দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। একসময় ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। চড়া দামে টিকিট কেটে মাঠে গিয়েও প্রিয় তারকাকে দেখতে না পেয়ে ধৈর্যচ্যুতি ঘটে তাঁদের। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় ১১-৫২ মিনিট নাগাদ মেসিকে যুবভারতী থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার পর। চড়া দামে টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে না পাওযায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জনতা। রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে যুবভারতী। ২-৩ হাজার মানুষ ফেন্সিং টপকে মাঠে ঢুকে পড়েন। কয়েক জন ছিঁড়ে ফেলেন গোলপোস্টের জাল। ভেঙে ফেলেন সাজঘরে যাওয়ার ট্যানেলের ছাউনি। পরিস্থিতি সামলাতে নামাতে হয় র্যাফ। ভেতরের ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাইরে ইএম বাইপাসেও। স্টেডিয়ামের বাইরেও উত্তেজিত হয়ে ওঠে জনতা। লাঠি নিয়ে জনতাকে তাড়া করে পুলিশ। ‘চোর-চোর’ স্লোগান জনতার। মেসিকে সামনে রেখে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন জনতার একাংশ। যুবভারতীতে লুট ক্ষুব্ধ জনতার একাংশের। ঘাস, চেয়ার, গাছের টব নিয়ে বাড়ির পথে দর্শকদের একাংশ। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ঘিরেও উঠেছে প্রশ্ন।
এই নজিরবিহীন ঘটনার তদন্ত করতে ৩ সদস্যের কমিতি গঠনের নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকার। এই তাণ্ডবে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আঙুল তোলেন উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে। তার কিছুক্ষন পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার বলেন, মূল উদ্যোক্তাকে আটক করা হয়েছে। তিনি লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন, শনিবারের দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। সাংবাদিক সম্মেলনের কিছুক্ষণ পরেই জাভেদ শামিম জানান, “যুবভারতী এবং সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি আপাতত শান্ত। এবার গোটা ঘটনায় শুরু হবে তদন্ত। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনায় দায়ের হয়েছে এফআইআর। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টিকিটের দাম দর্শকদের কীভাবে ফেরত দেওয়া যায়, সেই চিন্তাভাবনা চলছে।”





