Header AD

যুবভারতীতে তাণ্ডবের ঘটনায় পুলিশের জালে ৫ অভিযুক্ত

শনিবার যুবভারতী কাণ্ডের পর গোটা ঘটনার কারণ খুঁজতে তৎপর প্রশাসন । একদিকে ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান, অন্যদিকে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের খুঁজে বের করা- দুই কাজের তদন্তই চলছে একযোগে। আনুমানিক ২.৫ কোটি টাকার সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গোটা ঘটনার জন্য ইতিমধ্যেই আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এবার ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করল বিধানংর থানার পুলিশ।

উল্লেখ্য, হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও একবার চোখের দেখা দেখতে পাননি লিওনেল মেসি-কে। আর সেই ক্ষোভেই শনিবার তছনছ চলল যুবভারতী স্টেডিয়ামে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কিংবদন্তি ফুটবলারকে ঘিরে ভিআইপি আর বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতা, আয়োজক , ফটো শিকারিদের ভিড় থাকার ফলে সাধারণ মানুষ দেখতেও পাননি মেসিকে। ফুটবলার যখন স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যান, তারপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকরা। গ্যালারি থেকে বোতল ছোড়া হয়, ভেঙে ফেলা হয় ব্যানার। তারপর ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে ঢুকে রীতিমতো তাণ্ডব চালায় উন্মত্ত জনতা। এবার সেই ভাঙচুরের অভিযোগে প্রথমে ২জনকে গ্রেপ্তার করে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। তার কয়েকঘন্টার মধ্যেই আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হল। গোটা ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা ৫।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম শুভ্রপ্রতিম দে ,গৌরব বসু, বাসুদেব দাস, সঞ্জয় দাস এবং অভিজিৎ দাস। যুবভারতীতে তাণ্ডব এবং ভাঙচুরের মামলায় তদন্ত চলাকালীনই প্রথমে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার মেসির সফরে যে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় তার দু’দিন পর ভাঙচুরের অভিযোগে প্রথম গ্রেপ্তারি হয়। সোমবার ধৃত দুজনকেই বিধাননগর মহকুমা আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানায় বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। বেলা গড়াতেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে আরও ৩ অভিযুক্ত। উল্লেখ্য,শনিবারই অবশ্য মেসির ‘গোট’ কনসার্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। যার ফলে যুবভারতী কাণ্ডে সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, যুবভারতীর এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে দুই জন আইনজীবী জনস্বার্থে মামলাও দায়ের করেছেন।

শনিবার যুবভারতীতে যে বিভিন্ন সংস্থাগুলি দায়িত্বে ছিল, তলব করা হয়েছে সেই সংস্থার প্রতিনিধিদেরও। মোট ৬জনকে মঙ্গলবার থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। জল সরবরাহ, টিকিট বিতরণের মতো কাজের দায়িত্ব ছিল এই সংস্থাগুলির উপর। মেসির সফরের সময় তাঁদের কাজে কোনও গাফিলতি ছিল কিনা, সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ওই ৬জনকে।

প্রসঙ্গত, যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার পরে গত শনিবারই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুটি মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। অশান্তি, ভাঙচুর, হিংসা ছড়ানো সহ ভারতীয় ন্যায় সংহতির ১৯২, ৩২৪ (৪)(৫), ৩২৬ (৫), ১৩২, ১২১ (২), ৪৫, ৪৬ এবং নাশকতামূলক কার্যকালাপ ছড়ানোর ও জনগনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়। ২৪ ঘন্টার মধ্যে শতদ্রুকে কোর্টে তোলা হলে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয় তাঁকে।