“পশ্চিমবঙ্গ শিল্পবান্ধব রাজ্য। কে বলে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প সম্ভবনা নেই। কিছু মানুষ শুধু বাংলার বদনাম করে। তারা জানে না বাংলা আমূল বদলে গিয়েছে। নানারকম বিধিনিষেধ জারি করে, বাড়তি GST-র বোঝা চাপিয়ে সবসময় বাংলাকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। এত বিধিনিষেধ আরোপ করলে তো মানুষ ভয় পাবেই। সারাক্ষণ এজেন্সিকে হাতিয়ার করে ভয় দেখালে ব্যবসা করবে কী করে? ব্যবসায়ীদের কাজের স্বাধীনতা দিতে হবে। সব কিছুতে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।” বৃহস্পতিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে বাণিজ্য সম্মেলনে (Business and Industry Conclave) দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই ভাষাতেই তোপ দাগলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্র সরকার। সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে হাতিয়ার করে ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এরপরই তিনি কেন্দ্রকে নিশানা করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীত্ব লাভের পর আমি যখন প্রথমবার সিঙ্গাপুরে যাই তখন বিজেপি সরকার ব্যঙ্গ করেছিল, বাংলায় শিল্প সম্ভবনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল। আমি সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছিলাম। আজ সেই বাংলাই পথ দেখাচ্ছে সকলকে।” গত ১৫ বছরে রাজ্যের শিল্প-সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে আগামী দিনে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ।
এদিনের সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৫ বছরে রাজ্যের শিল্পের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, “শ্রমিকরাই পশ্চিমবঙ্গের সম্পদ।” এরপরই তিনি বলেন বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ দেশ তথা এশিয়ার সবচেয়ে বড় লজিস্টিক হাব। এরাজ্যে তৈরি হয়েছে বৃহত্তম চর্মনগরী কর্মদিগন্ত। পাশাপাশি তিনি জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই দেউচা পাচামি, পুরুলিয়ার জঙ্গল সুন্দরীসহ একাধিক প্রকল্পের কাজ চলছে। ২ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমানো গিয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে ২৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। বাম আমলে ১২-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হত। রাজ্যের সিলিকন ভ্যালিতে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। এছাড়াও একাধিক প্রকল্পের কাজ চলছে। বাংলায় পর্যটনশিল্প আন্তর্জাতিক স্তরেও স্বীকৃত। রাষ্ট্রপুঞ্জ দুর্গাপুজো ও কালীপুজোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শিলিগুড়িতে তৈরি হবে মহাকাল মন্দির। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগামী দিনে বাংলাই সকলকে পথ দেখাবে।
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে তিনি একাধিক নতুন প্রকল্পের সূচনা করেন। যার মধ্যে অন্যতম মিনি সিনেমা পলিসি ২০২৫, সাগরদিঘি পাওয়ার প্ল্যান্ট, হরিণঘাটায় বাংলা ডেয়ারির নতুন প্ল্যান্ট, ১০টি আর্টিজান মল সহ একগুচ্ছ প্রকল্প। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নামবদলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি । বলেন, “আমরা জাতির জনককে ভুলে যাচ্ছি।” এরপরই তিনি ঘোষণা করেন কর্মশ্রী প্রকল্পের নাম রাখা হবে মহাত্মা গান্ধীর নামে।





