বাংলাদেশের অশান্তিকে হাতিয়ার করে বাংলায় রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি! হিংসার ভিডিও পোস্ট করে অশান্তির ‘প্ররোচনা’দেওয়া হচ্ছে! বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যর করা পোস্টের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের দাবি তুললেন তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, ওপার বাংলায় বিপন্ন সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ভারত সরকারের। ‘কেন্দ্রীয় সরকার অবিলম্বে এবিষয়ে পদক্ষেপ নিক, অবস্থান জানাক। দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা এসব ক্ষেত্রে কেন্দ্রের পাশে থাকি।’
বৃহস্পতিবার ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় বাংলাদেশে। আক্রান্ত সংখ্যালঘুরা, আক্রান্ত সংবাদমাধ্যমও। হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি শুরু হয়। রাত যত বাড়তে থাকে বিক্ষোভের আগুন তত ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশে। মৌলবাদী বিক্ষোভকারীরা আক্রমণ করে দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’,‘দ্য ডেইলি স্টার’-র দপ্তরে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় দপ্তর। ঢাকার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছায়ানটেও বিক্ষোভকারীরা ধ্বংসলীলা চালায়।
সেই ভিডিও শেয়ার করে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য দাবি করেন, বাংলাদেশে আজ যে মৌলবাদীদের দাপাদাপি শুরু হয়েছে সেটাই আগামী দিনে বাংলার ভবিতব্য। তিনি দাবি করেন, “বাংলাদেশের এই ঘটনা আমাদের জন্য হুঁশিয়ারির সমান। এটাই হয় যখন মৌলবাদ এবং উগ্রপন্থাকে প্রশ্রয় এবং উৎসাহ দেওয়া হয়। ঠিক এই কারণেই বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন উদ্বেগজনক। বহু বছরের রাজনৈতিক আশ্রয়, স্বাধীন সংস্থাগুলির অবক্ষয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে নীরবতা বাংলাকে বিপজ্জনক দিকে এগিয়ে দিচ্ছে।” মালব্যর দাবি, “২০২৬-এর পরও যদি বাংলায় মমতার শাসন চলে তাহলে বাংলার পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে।”
বিজেপির আইটি সেলের প্রধানের এই পোস্টে রীতিমতো প্ররোচনা দেখছে তৃণমূল। দলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, “বিজেপির অমিত মালব্য বাংলাদেশের ঘটনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে তুলনা করে যে পোস্ট করেছেন, তীব্র নিন্দা করছি। এটা শুধু এই রাজ্যকে অপমান নয়, এটা প্ররোচনা ছড়ানো। পুলিশের উচিত ব্যবস্থা নেওয়া। বাংলাদেশ ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদলের অবস্থান স্পষ্ট করে কুণাল জানান, “বাংলাদেশ থেকে উদ্বেগজনক খবর আসছে। কিছু অমানবিক ভিডিও ছড়াচ্ছে। সত্য মিথ্যা বোঝা কঠিন। যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক বিষয়, তাই কেন্দ্রীয় সরকার অবিলম্বে এবিষয়ে পদক্ষেপ নিক, অবস্থান জানাক। বাংলাদেশে থাকা সংখ্যালঘু, ভারতীয় ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের যথাযথ নিরাপত্তা বাঞ্ছনীয়।”

পাশাপাশি তৃণমূলের বক্তব্য তুলে ধরে এদিন তিনি আরও একটি পোস্ট করেন। সেখানে লেখেন, ” বাংলাদেশে যে হিংসা ও পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই।দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা সর্বদা কেন্দ্র ও জাতির পাশে আছি। তবে বিজেপির কিছু নেতা বাংলাদেশ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা টেনে পশ্চিমবঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে যে মন্তব্য করছেন, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা এই বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রক (MEA) ও বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
এর ফলে যদি কোনও হিংসা বা অশান্তিকর ঘটনা ঘটে, তার সম্পূর্ণ দায় বিজেপি নেতাদেরই নিতে হবে। নির্বাচনের আগে বিজেপি রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে, কিন্তু দিদির মা–মাটি–মানুষের সরকার বাংলায় এমন কিছুতেই হতে দেবে না। ভুলে গেলে চলবে না, এই সেই বিজেপি যারা বলেছিল ‘বাংলা ভাষা বলে কিছু নেই’ এবং রানাঘাটের এক বিজেপি সাংসদ দাবি করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত তুলে দেওয়া হবে।”






