রাজ্যে শুরু হয়ে গেল SIR প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ- এস আই আর শুনানি। নির্বাচন কমিশনের পূর্ব নির্ধারিত সূচির মতো শনিবার থেকেই ম্যাপিং-এ বাদ পড়া ভোটারদের শুনানি শুরু হয়ে গেল। ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে যে ভোটারদের কোনও ‘ম্যাপিং’ করা যায়নি, সেই ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৪ জন শুনানির প্রথম পর্বে ডাক পাবেন। নোটিশও তাঁরাই হাতে পেয়েছেন। এই শুনানি শুরু হতেই হইয়রানির শিকার হচ্ছেন বয়স্করা। দূর দুরান্তে গিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানিতে অংশ নিতে তাঁদের কার্যত নাজেহাল দশা।
শনিবার থেকে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হল শুনানি-পর্ব। প্রতিটি কেন্দ্রে দুই বা তার বেশি শুনানিকেন্দ্র থাকবে। থাকবে ১১টি করে শুনানির টেবিল। কমিশন সূত্রে খবর, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একজন নির্বাচনী আধিকারিক (ইআরও) এবং ১০ জন সহকারী নির্বাচনী আধিকারিক (এইআরও) থাকবেন। এই ইআরও এবং এইআরও-দের হাতেই রয়েছে ভোটারদের শুনানির মূল দায়িত্ব। এ ছাড়াও, ১১ জন মাইক্রো অবজ়ার্ভার গোটা প্রক্রিয়ার নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন। এনুমারেশন ফর্ম কীভাবে যাচাই করতে হবে, শুনানির জন্য ভোটারেরা যে নথিগুলি জমা দিচ্ছেন, তা কীভাবে খতিয়ে দেখতে হবে— সে সব বিষয় বুধবারই ৪ হাজারেরও বেশি মাইক্রো অবজ়ার্ভারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এঁরা ছাড়াও বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) এবং অনুমতি সাপেক্ষে বিএলও সুপারভাইজ়ার শুনানিতে থাকতে পারবেন। এ ছাড়া বাইরের কেউ সেখানে থাকার অনুমতি পাবেন না। প্রতিটি টেবিলে ১০০ থেকে ১৫০ জন ভোটারের শুনানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কমিশন। প্রক্রিয়া চলাকালীন সব ভোটারের ছবি তোলা হবে। সেই ছবি পাঠানো হবে কমিশনকে।
গ্রহণযোগ্য নথির তালিকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন অথবা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কোনও নথি, জন্ম শংসাপত্র, পাসপোর্ট, মাধ্যমিক বা তার অধিক কোনও শিক্ষাগত শংসাপত্র, রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র, ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট, জাতিগত শংসাপত্র, কোনও নাগরিকের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্ট্রার এবং জমি অথবা বাড়ির দলিল। এর মধ্যে যে কোনও একটি নথি দিতে হবে। তবে প্রয়োজনে একাধিক নথিও দেখাতে হতে পারে ‘নো-ম্যাপিং’ বা ‘সন্দেহজনক’ তালিকায় থাকা ভোটারকে। এ ছাড়াও, কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সিএএ শংসাপত্র দেখালে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে। ফর্ম-৬ পূরণ করে সেক্ষেত্রে আবেদন করতে হবে।
বিশেষ ও নিবিড় সংশোধনের দ্বিতীয় পর্বে এ বার শুরু হয়েছে আসল ঝাড়াইবাছাইয়ের প্রক্রিয়া। যে ভোটারদের তথ্য নিয়ে কমিশন পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়, শুনানির মাধ্যমে তাঁদের তথ্য যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।





