Header AD

মেসিকাণ্ডে এখনও জেল হেফাজতেই শতদ্রু! দর্শকদের টাকা ফেরতের শুনানি ১৭ জানুয়ারি

ফের জামিন খারিজ হয়ে গেল মেসিকাণ্ডে অভিযুক্ত শতদ্রু দত্তের। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। শুক্রবার শতদ্রুকে জেল হেফাজতে পাঠাল বিধাননগর মহকুমা  আদালত। গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে প্রবল বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সেদিনই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শতদ্রুকে। ১৪দিনের পুলিশি হেফাজত হয় মেসির কলকাতা সফরের মূল উদ্যোক্তার। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পর খারিজ হয় তাঁর জামিনের আবেদন। শতদ্রুর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) মোট আটটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ (এমপিও) আইন এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ (পিডিপিপি) আইনেও মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শতদ্রুকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। গতকাল সেই মামলারই শুনানি ছিল। ফের শুনানি আগামী ১৭ জানুয়ারি।

কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বেনজির বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত ১৩ ডিসেম্বর মেসির ভারত সফরের আয়োজক শতদ্রুকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তার পরে কেটেছে প্রায় এক মাস। ইতিমধ্যে  শতদ্রুর রিষড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালায় বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্তের ভার নেয় রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তল্লাশির পরই ব্যাঙ্ক ও নানা লেনদেন সংক্রান্ত হিসাব খতিয়ে দেখেন সিটের আধিকারিকরা। তদন্তকারীরা সন্ধান পেয়েছেন টিকিট বিক্রির মোট ২১ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকার মধ্যে ১০ কোটি টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন শতদ্রু। তবে দু’টি অ্যাকাউন্টই আপাতত বাজেয়াপ্ত। যুবভারতীতে মেসিকে দেখার জন্য মোট ৪০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। যার মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার টিকিট বিক্রি হয় অনলাইনে। শতদ্রুর ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। যদিও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে রাজ্য সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে এটা দেখা গিয়েছে যে, যুবভারতীতে মেসির সফরে আরও অনেক ‘প্রভাবশালী’ ছিলেন। তাঁদের সিট এখনও পর্যন্ত ডেকে পাঠায়নি। সেই সূত্রেই প্রশ্ন উঠছে, ওই ঘটনার জন্য একা শতদ্রুই কি ‘দায়ী’? এদিন তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, শতদ্রু অসুস্থ। বাড়িতে তাঁর নাবালক ছেলে রয়েছে। সেসব ভেবে তাঁকে জামিন দেওয়া হোক। সেক্ষেত্রে তিনি সপ্তাহে তিনদিন এসে পুলিশের কাছে হাজিরা দিতে রাজি আছেন। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করা হয়নি। এদিন সরকার পক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জেলাশাসকের মাধ্যমে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৭ নম্বর ধারার প্রসঙ্গ তুলে জানান, কীভাবে দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ১৭ জানুয়ারি সেই বিষয়েও শুনানি হবে।

গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলায় দু’টি পৃথক মামলা হয়েছিল বিধাননগর দক্ষিণ থানায়। প্রথম মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার শতদ্রু। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালতে শতদ্রুর জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশ জানিয়েছিল, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক মেসিকে দেখবেন বলে টিকিট কেটেছিলেন। পুলিশের আশঙ্কা জামিন পেলে শতদ্রু প্রভাব খাটিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন।