‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র অজুহাতে বৈধ ভোটারদের নাম কাটার চক্রান্ত অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, এই দাবিতে গত বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এবার সেই ইস্যুতেই দলের নেতা-কর্মী এবং বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ-টুদের আরও সজাগ করতে আগামী ২২ জানুয়ারি ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের খবর, এই বৈঠকের মূল ফোকাস থাকবে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র বিষয়টি। বিএলএ-টুদের পাশাপাশি দলের নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক এবং কর্মীদের কাছে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তথ্য তুলে ধরতে চান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মনে করা হচ্ছে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কোথায়, কীভাবে নাম কাটার চেষ্টা হচ্ছে এবং তা চিহ্নিত করে কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, সেই সমস্ত রূপরেখাই তুলে ধরা হবে এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে।SIR শুরুর প্রথম দিন থেকেই খসড়া তালিকা সহ হিয়ারিং এর ডাক পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা নিয়ে সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথমে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের কাছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নোটিস ধরিয়ে অন্য পথে ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের চেষ্টা চলছে। তাই অবিলম্বে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকা প্রকাশের দাবিতে সরব হয়েছিলেন মমতা-অভিষেক। এ নিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার দুই সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন এবং দোলা সেন SIR প্রক্রিয়ায় আপত্তি তুলে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে অভিষেকের এই ভার্চুয়াল বৈঠক ঘোষণার কিছু পরেই সংশ্লিষ্ট মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। প্রকাশ্যে ওই সংক্রান্ত তালিকা টাঙিয়ে দিতে বলা হয়েছে। যা বিজেপি এবং কমিশনকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।প্রসঙ্গত গত মঙ্গলবার বাঁকুড়ার খাতড়ায় একটি রহস্যজনক গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় কয়েক হাজার এসআইআর-এর ফর্ম-৭। অভিযোগ, প্রায় সব ফর্মই আগেই পূরণ করা ছিল। তৃণমূলের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ওই ফর্মগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও। এ বিষয়ে তৃণমূলের বক্তব্য, শুধু বাঁকুড়া নয়—পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ও তমলুক, মালদহের ইংরেজবাজার, হুগলির চুঁচুড়া ও চন্দননগর, উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর থেকে কলকাতার জোড়াসাঁকো—প্রায় সর্বত্র একই কায়দায় নাম কাটার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন। তাঁরা।





