সোমবারের পর মঙ্গলবারও দালাল স্ট্রিটে রক্তক্ষরণ অব্যাহত রইল। বাজার যে আরও নামতে পারে, তার ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। মঙ্গলবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়। দিনের শেষে সেনসেক্স এক হাজার পয়েন্টেরও বেশি পড়ে যায়। একই পথে হেঁটেছে নিফটিও। এই জোড়া ধাক্কায় কার্যত বিপাকে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
মঙ্গলবার সকালে লেনদেন শুরু হতেই লার্জ ক্যাপ, মিড ক্যাপ ও স্মল ক্যাপ—প্রায় সব বিভাগেই লাল রঙের ছাপ স্পষ্ট ছিল। বাজার বন্ধের সময় দেখা যায়, সেনসেক্স ১০৬৫.৭১ পয়েন্ট বা ১.২৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮২,১৮০.৪৭ পয়েন্টে। নিফটি ৩৫৩ পয়েন্ট বা ১.৩৮ শতাংশ পড়ে শেষ করেছে ২৫,২৩২.৫০ পয়েন্টে। ব্যাঙ্ক নিফটির অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়—৪৮৭.১৫ পয়েন্ট কমে সূচক দাঁড়িয়েছে ৫৯,৪০৪.২০-এ। এত পতনের ফলে স্বাভাবিকভাবে শেয়ারভিত্তিক ছবিটাও ছিল বেশ হতাশাজনক। আইআরএফসি, বাজাজ ফিনান্স, লোধা এবং হ্যাভেলস ইন্ডিয়া-র মতো শেয়ারগুলিতে ৪ থেকে প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত পতন লক্ষ করা গিয়েছে। যদিও এই চাপের মধ্যেও কিছু ব্যতিক্রম ছিল। হিন্দুস্থান জিঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, ম্যানকাইন্ড ফার্মা ও এমআরএফ সামান্য হলেও সবুজে দিন শেষ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বড়সড় পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার টাকা তুলে নেওয়া। শুধু গত ডিসেম্বর মাসেই ২১ হাজার কোটির বেশি বিদেশি বিনিয়োগ ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। জুলাই থেকে হিসেব করলে এই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১.৭০ লক্ষ কোটি টাকা। জানুয়ারিতেও সেই প্রবণতা বদলায়নি, যা বাজারের জন্য বড় ধাক্কা। এর পাশাপাশি, বেশ কিছু সংস্থার আর্থিক ফল বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তার জেরে বড় বড় শেয়ারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। ডলারের তুলনায় টাকার রেকর্ড পতন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্ব রাজনীতির নানা উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক ইস্যু এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিও বিশ্ব বাজারের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় বাজারে চাপ বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, আপাতত দালাল স্ট্রিটে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের চোখ এখন পরিস্থিতির পরবর্তী মোড়ের দিকে।





