বিয়ের মরশুম শুরু হতেই মধ্যবিত্তের কপালে ভাঁজ। কলকাতার বাজারে সোনার দাম (gold price) আকাশছোঁয়া। বুধবার সন্ধ্যায় জিএসটি-সহ ২৪ ক্যারাট সোনার ১০ গ্রামের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। একই সঙ্গে ২২ ক্যারাট সোনার দরও বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৫১০ টাকা। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে সোনার দাম প্রায় দ্বিগুণ—ফলে সাধ ও সাধ্যের ফারাক ক্রমেই বাড়ছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট শহরের গয়নার বাজারে। অলঙ্কার বিপণিতে ভিড় থাকলেও নতুন গয়না কেনার জন্য নয়। বরং পুরনো সোনা বদলে নতুন গয়না বানানোর প্রবণতাই এখন বেশি। ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ ক্রেতাই এক্সচেঞ্জের পথ বেছে নিচ্ছেন। অনেকেই খরচ কমাতে কম ক্যারাটের গয়নার দিকে ঝুঁকছেন।
কেন হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি? স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে একাধিক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক (Central Bank) , পোল্যান্ডের ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (National Bank of Poland) মতো প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের সোনা কিনে মজুত শুরু করেছে। এর জেরে বিশ্ববাজারে চাহিদা ও দাম দুটোই চড়েছে। এক নামী স্বর্ণালঙ্কার প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকের কথায়, “এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে মধ্যবিত্তের উপর। তাই এখন হালকা ওজনের গয়নার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।”
বাজারের এই বাস্তবতায় বদলাচ্ছে গয়নার নকশা ও ধরণও। ২৪ বা ২২ ক্যারাটের বদলে ১৮ ক্যারাট এমনকি ৯ ক্যারাট হলমার্কযুক্ত গয়নার চাহিদা বাড়ছে। এগুলি যেমন টেকসই, তেমনই তুলনামূলকভাবে সস্তা। পাশাপাশি হিরে বা মুক্তোর কাজ করা গয়নাতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রেতারা।
তবে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন জেলা ও শহরের ছোট স্বর্ণশিল্পীরা। সোনার দামের দ্রুত ওঠানামার কারণে তাঁদের পক্ষে আগাম সোনা কিনে রাখা প্রায় অসম্ভব। অল্প অগ্রিম নিয়ে কাজ শুরু করলেও পরে বাড়তি দামে সোনা কিনতে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই ধারা চলতে থাকলে বহু ছোট গয়নার দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।





