Header AD

এসআইআর আবহে দিল্লিমুখী মুখ্যমন্ত্রী! ভোটার হয়রানির অভিযোগে দেশজুড়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলাই কি লক্ষ্য?

বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর- SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ থামছেই না। এই ইস্যুতে বারবার সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার সেই আবহেই দিল্লি যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে নির্বাচন কমিশনে (Election Commission of India) সরাসরি যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি মুখ্যমন্ত্রী।সোমবার ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে লোকভবনে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের আমন্ত্রণে চা-চক্রে যোগ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আসন্ন দিল্লি সফরের ইঙ্গিত দেন।

শোনা যাচ্ছে, আগামী মাসেই তাঁর রাজধানী সফর হতে পারে। সেই সময় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলবে। ফলে অধিবেশন চলাকালীন তৃণমূলের সংসদীয় দলের রণকৌশল ও ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।এসআইআর নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরের ঘোষণা নতুন করে চর্চা উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতেই এই সফর। পাশাপাশি দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলাও লক্ষ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

এর আগে সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবিধান রক্ষার শপথের কথা স্মরণ করান। তিনি লেখেন, দেশের সংবিধানের মূল মূল্যবোধ—ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের প্রতি নতুন করে অঙ্গীকার করার সময় এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন “চিরন্তন সতর্কতাই স্বাধীনতার মূল মন্ত্র।”

উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আমজনতার হয়রানির প্রতিবাদে আগেই পথে নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব, মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিরা। সেই কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন একাধিক সেলিব্রিটিও। করেছেন মেগামিছিল। সেই মিছিল শেষে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে দিল্লিতে এক লক্ষ মানুষকে নিয়ে যাওয়া হবে।

গত বছরের শেষদিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের এক প্রতিনিধিদল দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি তোলে। পরে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের প্রশ্নের কোনও সন্তোষজনক জবাব দেননি। এদিকে এসআইআরের কার্যপদ্ধতির জটিলতা ও অমানবিকতার অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জ্ঞানেশ কুমারকে পাঁচটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যার কোনও উত্তর মেলেনি। তাই এই সফরে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কমিশনের দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।