আনন্দপুরের নাজিরাবাদের মোমোর গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আট জনের ঝলসানো দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। পুলিশ সূত্রে খবর এখন নিখোঁজ অন্তত ২৫, যার মধ্যে ১৩ জন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। অগ্নিদগ্ধ দেহ শনাক্ত করার জন্য হবে ডিএনএ পরীক্ষা।মঙ্গলবার সকালে দমকলের ডিজিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। ঘটনার যথাযত তদন্ত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই মোমোর গোডাউনের সামনে এখন শুধুই কান্নার রোল আর হাহাকার। ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে প্রিয়জনের খোঁজে উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছেন পরিবার-পরিজনরা।
আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় ১৩ জন শ্রমিক এখনও নিখোঁজ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সোমবার, সাধারণতন্ত্র দিবসের সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পৌঁছতেই ভেঙে পড়ে তাঁদের পরিবার।অনেকেই দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরে ছুটে এসেছেন।অগ্নিদগ্ধ ‘জতুগৃহে’র সামনে দাঁড়িয়ে, কখন কোনও খবর আসবে—এই আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন তাঁরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন পাঁশকুড়ার শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ পথিকর, তপন দোলুই, ময়নার বুদ্ধদেব জানা ও সৌমিত্র মণ্ডল। পাশাপাশি তমলুক ব্লকের দেবাদিত্য দিন্দা, বিমল মাইতি, গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা, শশাঙ্ক জানা এবং নন্দকুমারের গড়গোদা এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ মাইতিও এখনও নিখোঁজ। তাঁদের বাড়িতে এখন শুধুই হাহাকার। সময় যত এগোচ্ছে, উদ্বেগ ততই বাড়ছে।
সোমবার দিনভর প্রশাসনের আধিকারিকরা নিখোঁজদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। পুলিশ আধিকারিক, মহকুমা শাসক-সহ বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক কর্তারা নিয়মিতভাবে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সব রকম সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের তরফে আনন্দপুরে ঘটনাস্থলে তিনজন আধিকারিককে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ আগুন লাগে একটি ব্র্যান্ডেড মোমোর গোডাউনে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় মোমোর গুদাম। দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর আগুন কিছুটা আয়ত্তে আসে। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় পাশের আরও একটি ডেকরেটরসের গুদামও।সোমবার ঘটনাস্থলে যান মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। উদ্বিগ্ন পরিবার গুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এরপর মঙ্গলবার সকালে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর উপস্থিতিতে দমকল বিভাগের ডিজি স্বীকার করেন, ওই কারখানার কোনও বৈধ দমকল অনুমোদন ছিল না। দিনের পর দিন কীভাবে একটি অনুমোদনহীন কারখানা চলছিল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। আনন্দপুর এলাকা জুড়ে এখন শুধুই স্বজনহারাদের কান্না, নিখোঁজদের পরিবারের অসহায় অপেক্ষা আর একরাশ প্রশ্ন—কিন্তু এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের দায় কার?





