Header AD

এসআইআর নোটিশ পাওয়ার পরই আতঙ্কের গ্রাসে! হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জোড়া মৃত্যু

রাজ্যেএসআইআর(SIR) আবহে ফের মৃত্যুর ঘটনা ওঠে এল। এ রাজ্যের নদিয়া এবং মালদহ— দুই জেলায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ‘এসআইআর আতঙ্কে’ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের তরফে দাবি, এসআইআরের নোটিস বাড়ি পৌঁছোনোর পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁরা। মঙ্গলবার সকালে দু’জনের মৃত্যু হয়।

জানা গিয়েছে, নদিয়ার তেহট্ট বিধানসভা এলাকার বেলতলা পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের ২৭৪ নম্বর পার্টের ভোটার ছিলেন আহিবা বিবি। সোমবার সন্ধ্যায় এসআইআরের শুনানির নোটিস পান তিনি। তাঁর শ্বশুরবাড়ি তেহট্টে হলেও বাপের বাড়ি নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাপের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ির নথিতে নামের পদবিতে অসঙ্গতি থাকায় আহিবার নামে এসআইআরের শুনানির নোটিস জারি করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের থেকে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই মানসিক চাপে ভুগছিলেন ওই প্রৌঢ়া। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় তাঁর মনে। রাতে খাওয়াদাওয়াও করেননি। গত সোমবার মধ্যরাতে আচমকাই বুকে ব্যথা অনুভব করেন আহিবা। দ্রুত তাঁকে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় কারণে তাঁকে কল্যাণী গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন সেখানকার চিকিৎসকেরা। মঙ্গলবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের তরফে অভিযোগ, এসআইআরের আতঙ্কেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আহিবার।

অন্যদিকে এ রাজ্যের আরেক জেলা মালদহের নিকচকের নুরপুর নিচু তিওরপাড়ার এলাকার বাসিন্দা শেখ শরিফুলের মৃত্যুর পেছনে এই এসআইআর আতঙ্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ২০০২ সালে ভোটার কার্ডে তাঁর নাম ছিল শরিফুল। কিন্তু দুই পুত্রের ভোটার কার্ডে পিতার নামের জায়গায় রয়েছে শেখ শরিফুল। সেই কারণে কিছু দিন আগেই দুই পুত্রের নামেই এসআইআর নোটিস আসে বাড়িতে। এই নোটিস পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই প্রৌঢ়। পুত্রদের নাম বাদ যাবে না তো ভোটার তালিকা থেকে – এই আশঙ্কা করছিলেন ওই প্রৌঢ়, এমনই দাবি পরিবারের। মঙ্গলবারই ছিল দুই পুএদের শুনানির দিন। তার আগেই বাড়িতে মৃত্যু হল তাঁর। পরিবারের দাবি, আতঙ্কে, মানসিক চাপে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় শরিফুলের। সব মিলিয়ে আতঙ্কের আবহে যতদিন যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে হয়রানির পরিমান আরও বাড়ছে।