আনন্দপুরের মোমো ও ডেকরেটর্সের গুদামে আগুন (Anandapur Fire) লাগার পর পাঁচদিন কেটে গিয়েছে। এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক দেহাংশ উদ্ধার হচ্ছে । শুক্রবার সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও চারটি দেহাংশ উদ্ধারের খবর মিলেছে। এই ঘটনায় এখনও অবধি মোট ২৫টি দেহাংশ উদ্ধার হল বলে খবর। এদিকে ঘটনার পাঁচ দিন পর মোমো সংস্থার দুই আধিকারিককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের সেই রাতে দুটি গুদামে ঠিক কতজন ছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
আনন্দপুর নাজিরাবাদের অগ্নিদগ্ধ (Anandapur Fire) দুই গুদামে এখনও চলছে উদ্ধার কাজ। এদিন সকালে আর্থ মুভার, জেসিবি নিয়ে এসে ঘটনাস্থলে জড়ো করা জিনিসপত্র পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়। সেই সময়ই নতুন করে ৪ দেহাংশের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে । যদিও পুলিশের তরফে কোনও কিছু নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে দেহাংশগুলি কার এবং তাঁদের নাম-পরিচয় জানার জন্য ডিএনএ ম্যাপিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।তবে এই মুহূর্তে পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ওইদিন রাতে ঠিক কতজন শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মী ওই দুটি গুদামে উপস্থিতি ছিল তা খুঁজে বের করা ।
প্রসঙ্গত, রবিবার ভোররাতের ঘটনার পরে মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুরের এলাচি থেকে গ্রেপ্তার হন ডেকরেটর সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাস। বুধবার তাকে বারুইপুর আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি আবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। তার আগেই পুলিশ ওই মালিককে জেরা করে কারখানা ও গুদামের বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার রাত থেকেই নাজিরাবাদের ঘটনাস্থলে জারি করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা। তা বলবৎ থাকবে শুক্রবার, ৩০ মার্চ পর্যন্ত।
এদিকে আনন্দপুরের মোমোর গুদামে আগুনের (Anandapur Fire) ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ২। আগেই ডেকরেটর সংস্থার মালিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল মোমো সংস্থার দুই আধিকারিক। ওই সংস্থার ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট ও ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে খবর। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে নরেন্দ্রপুর থেকেই তাঁদের পাকড়াও করেছেন তদন্তকারীরা।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের রাতে গুদামের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। আগুন লাগার পর ভিতরে থাকা কর্মীরা প্রাণপণে বাইরে বেরনোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দরজা বন্ধ থাকায় তাঁরা জীবন্ত দগ্ধ হন। আগুন লাগার পর, অনেকেই পরিবারের লোকেদের ফোন করে সেই খবর দিয়ে আগাম মৃত্যুর আভাস দিয়েছিলেন! ঘটনার পর থেকেই সেই মর্মান্তিক বিষয়টিও বার বার উঠে আসছে। ভিতরে শ্রমিকদের রেখে কেন কারখানার দরজা বাইরে থেকে আটকে দেওয়া হবে? এই অমানবিক আচরণ কেন? সেই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠেছে।





