Header AD

‘এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বেন না, সর্বাত্মক লড়াই চাই’,ভবানীপুর কেন্দ্রের BLA2-দের সতর্কবার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ চক্রান্তের বিরুদ্ধে দলকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুক্রবার কালীঘাটের বাসভবনে নিজের ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিএলএ–২দের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই লড়াই কোনওভাবেই শিথিল করা যাবে না।দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য, “দুরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে। লড়াইয়ে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়া যাবে না।”

এদিনের বৈঠকে তিনি সকলকে মনে করিয়ে দেন, মাইক্রো অবজারভার বলে কোনও সাংবিধানিক পদ নেই। বাংলার ওপর জোর করে এই ব্যবস্থা চাপানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা তুলে ধরতে বলেন দলনেত্রী। পাশাপাশি, নথি জমা দেওয়ার সময় অবশ্যই রশিদ নেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেন।

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ সকল কাউন্সিলর। তাঁদের উদ্দেশেও আরও বেশি সতর্ক থাকার বার্তা দেন মমতা। তিনি বলেন, “আপনারা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন, কিন্তু আগামী কয়েকদিন আরও বেশি লড়াই দিতে হবে। আরও কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন।”

তৃণমূল সুপ্রিমোর নির্দেশ, প্রতিদিন সাধারণ মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছে যেতে হবে এবং আরও বেশি করে স্ক্রুটিনি করতে হবে। ভবানীপুর কেন্দ্রের কয়েকটি ওয়ার্ডের দিকে বিশেষ নজর দিতে বলেন তিনি। বিশেষ করে ৬৩ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়তি জোর দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে শুনানিতে যাদের ডাকা হচ্ছে এবং যাদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে, তাঁদের তালিকা সরাসরি তাঁর কাছে পাঠাতে বলেন। ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে বহু নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিদিনের রিপোর্ট ফিরহাদ হাকিম ও দেবাশীষ কুমারকে দিতে হবে, যাঁরা সেই রিপোর্ট নেত্রীর কাছে পাঠাবেন।

বৈঠকের শেষে তিনি আবারও স্পষ্ট করে দেন—এই লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে কোনও গাফিলতি চলবে না।