Header AD

আনন্দপুরের আগুনে নিয়ে বিজেপির ‘লাশের রাজনীতি’! অমিত শাহকে তোপ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড এক কথায় দুর্ভাগ্যজনক, বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক। অবশেষে নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করলেন, এই ঘটনা নিয়ে শুরু থেকেই বিজেপি রাজনীতি করছে। শনিবার দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বক্তব্যের কড়া জবাব দেন তিনি। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘বিজেপি লাশের রাজনীতি করছে’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার বারাকপুরের সভা থেকে অমিত শাহ আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এদিন বিমানবন্দরে অভিষেক বলেন, “দুর্ঘটনা ঘটলেই বিজেপির পলিটিক্স শুরু হয়ে যায়। বিজেপি শকুনের মতো মৃতদেহ খোঁজে, আর লাশের রাজনীতি করে।” সংবাদমাধ্যমের প্রতিও আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা সমাজের চোখ-কান। যদি কোথাও কোনও ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে, তা ধরিয়ে দিন। সবাই মিলে কাজ করতে হবে, যাতে এমন ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না হয়।”

এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে অভিষেক বলেন, “অমিত শাহ যদি বলেন আনন্দপুরের দুর্ঘটনার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী, তাহলে এক মাস আগে গোয়ার নাইট ক্লাবে আগুন লাগার জন্য কি নরেন্দ্র মোদি দায়ী? ইন্দোরে পানীয় জল খেয়ে ২৫ জনের মৃত্যুর জন্য কি নরেন্দ্র মোদি দায়ী? একটি মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন মানুষ কত নীচে নামতে পারেন!”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, “একটি প্রাইভেট গোডাউনের ভেতরে কে কী করছে, কোন পরিস্থিতিতে আছে—সবকিছু সরকারের পক্ষে নজরে রাখা সম্ভব নয়। সরকার একজনের বাড়ি ঢুকে তার আসবাব দেখে না। তবে ফায়ার ডিপার্টমেন্ট থেকে জেলা প্রশাসন সক্রিয়ভাবেই কাজ করেছে। যাদের গাফিলতিতে এই দুর্ঘটনা, সেই গোডাউনের মালিক এবং ওয়াও মোমোর ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। যদি এর ঊর্ধ্বে কেউ জড়িত থাকে, সে যত বড় শিল্পপতিই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

আনন্দপুরের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ওয়াও মোমোর মালিক ও অন্যান্য শিল্পপতিদের বিদেশ সফরের ছবি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় যে বিতর্ক চলছে, সে বিষয়েও এদিন মুখ খোলেন অভিষেক। তাঁর কথায়, “যারা এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশ সফরের ছবি নিয়ে রাজনীতি করছে, তারা কি ভুলে যাচ্ছে নীরব মোদি ও মেহুল চোকসির কথা? যাঁদের বিরুদ্ধে ১৮-২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর অভিযোগ, তাঁরাও তো নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে মোদির সঙ্গে কার কার ছবি রয়েছে? নীরব মোদির ছবি নেই? এসব কথা শুধু লোক হাসানোর জন্যই বলছে বিজেপি।”

সব মিলিয়ে, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শোক ও দায়বদ্ধতার বদলে রাজনীতির অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।