সহজে ধনী হওয়ার লোভই শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনে সর্বনাশ ডেকে আনল এক কলেজপড়ুয়া! প্রেমিকার ফ্ল্যাটকে নিশানা করে প্রায় পেশাদার কায়দায় বিপুল অঙ্কের সোনা ও নগদ টাকা লুঠের অভিযোগে গ্রেপ্তার হল দক্ষিণ কলকাতার একটি নামী বেসরকারি কলেজের বিসিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র। ধৃতের নাম হর্ষবর্ধন সাউ। ঘটনাটি ঘটেছে সরশুনার একটি অভিজাত বহুতল আবাসনের।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে সাবানের টুকরোয় ফ্ল্যাটের চাবির ছাপ তোলে হর্ষবর্ধন। সেই ছাপ ব্যবহার করে তৈরি করে নেয় নকল চাবি। এরপর অনলাইনে কিনে ফেলে লোহা কাটার ইলেকট্রিক করাত এবং টাকা গোনার যন্ত্র—যা দেখে গোয়েন্দারাও প্রাথমিক ভাবে চমকে যান।
২১ ডিসেম্বর থেকে কয়েকদিনের জন্য প্রেমিকার ফ্ল্যাট ফাঁকা থাকবে, এই তথ্য আগে থেকেই জানত অভিযুক্ত। আরও জানত, শোওয়ার ঘরের আলমারির লকারে রাখা আছে প্রচুর সোনা ও নগদ টাকা। সুযোগ বুঝে নকল চাবি দিয়ে দরজা খুলে সে ফ্ল্যাটে ঢোকে। আলমারির পিছন দিক কেটে লকারে পৌঁছে যায় এবং সেখান থেকে প্রায় ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের সোনার গয়না ও সাড়ে ২৬ লক্ষ টাকা লুঠ করে। ফ্ল্যাটের মধ্যেই বসে যন্ত্র দিয়ে টাকা গোনার পর ব্যাগে ভরে নির্বিঘ্নে বেরিয়েও যায়। পরিবারের লোকজন আলমারি খুলে লকার ফাঁকা দেখার পরই চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তখন শোরগোলের মধ্যেই ‘সহযোগিতার’ ভান করে এগিয়ে আসে ওই যুবক। উল্টো দিকের ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার অজুহাতে সে ওই ক্যামেরার হার্ড ডিস্ক চুরি করে নেয় বলেও অভিযোগ।
সরশুনা থানায় অভিযোগ দায়ের হলে তদন্তে নামে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। প্রথমে কোনও বাইরের লোকের প্রবেশের প্রমাণ না মেলায় তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, কাজটি ভিতরেরই কারও। ধীরে ধীরে নজর পড়ে আবাসনের বাসিন্দাদের যাতায়াতের উপর। শেষ পর্যন্ত মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করেই ফাঁস হয় রহস্য— জানা যায়, চুরির সময় ফ্ল্যাটের ভিতরেই ছিল হর্ষবর্ধন।
টানা জেরার মুখে অবশেষে ভেঙে পড়ে সব স্বীকার করে নেয় অভিযুক্ত। তার কাছ থেকে ইলেকট্রিক করাত উদ্ধার করা হয়েছে। লুঠ হওয়া সোনা ও টাকার খোঁজে এখনও জেরা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধৃতকে সোমবার আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।





