প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এক বড়সড় অগ্রগতির পথে পা বাড়াল ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Airforce)। সফল ভাবে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হল র্যামজেট শক্তি সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র। শত্রুপক্ষের বিমানে অব্যর্থ আঘাত আনতে পারে এই বিশেষ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র (DRDO) তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র দেশের আকাশ-প্রহরাকে আরও নিশ্ছিদ্র করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি ভারতীয় সেনাকে শত্রুবিমান ধ্বংস করতে বিশ্বমানের ‘রামজেট’ শক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা পাওয়ার পথ প্রশস্ত করল।
র্যামজেট হল এক বিশেষ ধরনের জেট ইঞ্জিন, যা সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহার করা হয়। বিশ্বের খুব কম দেশের কাছেই এই প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এই বিশেষ প্রযুক্তির ইঞ্জিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এতে কোনও জটিল টার্বাইন থাকে না। ফলে এই ইঞ্জিনে ব্যবহার করা ক্ষেপণাস্ত্র খুব হালকা হয় এবং তীব্র গতিতে শত্রুপক্ষের উপর আঘাত হানতে পারে। র্যামজেট প্রযুক্তির ইঞ্জিন সামনের দিক থেকে আসা বায়ুকে তীব্র গতিতে টেনে নেয়। তার পরে সেই বায়ুই ইঞ্জিনে ‘থ্রাস্ট’ তৈরি করে। এই ‘সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র্যামজেট’ প্রযুক্তি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের গতি এবং কার্যকারিতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
জানা যাচ্ছে, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার সকাল ১০.৪৫ মিনিটে ওড়িশার উপকূলে চাঁদিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে এই পরীক্ষা করা হয়। দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত হল। ডিআরডিও জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে ক্ষেপণাস্ত্রটির সবকটি মাপকাঠি নিখুঁত ভাবে কাজ করেছে। যে স্বল্পসংখ্যক দেশের হাতে এই প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেই তালিকায় জুড়ে গেল ভারতও।
অপারেশন সিঁদুর এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের পরবর্তী সময়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। আগামী অর্থবর্ষের জন্য দেশের প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র। ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রকেও সুপারসনিক থেকে হাইপারসনিক করে তোলার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে র্যামজেট প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করে ফেলল ভারত।





