Header AD

একছাদের তলায় আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসা: এপ্রিল থেকেই চালু বাংলার ১০ তলা সরকারি ক্যানসার হাব

এবার একই ছাদের নীচে মিলবে একাধিক আধুনিক ক্যানসার (Cancer Treatement) চিকিৎসা পরিষেবা। রাজ্যেই এবার গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক সরকারি ক্যানসার হাব। যার ফলে ভবিষ্যতে ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভিনরাজ্যে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকেই সরকারি উদ্যোগে চালু হচ্ছে এসএসকেএম হাসপাতালের বিপরীতে জি+৯ কাঠামোর এই ১০ তলা ক্যানসার হাব।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০ বছরে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দেড়গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই ক্যানসার হাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ‘ডে কেয়ার’ ভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থা—যেখানে রোগীরা দিনে চিকিৎসা নিয়ে একই দিনেই বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। খুব প্রয়োজন না হলে হাসপাতালে ভর্তি থাকার দরকার হবে না।

প্রাথমিক পর্যায়ে এখানে শুরু হচ্ছে সার্জিকাল অঙ্কোলজি, মেডিক্যাল অঙ্কোলজি এবং রেডিওথেরাপির ওপিডি পরিষেবা। ধাপে ধাপে চালু হবে ইনডোর পরিষেবাও। রাজ্যে ক্যানসার চিকিৎসার উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার যে স্বপ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখেছিলেন, তারই বাস্তব রূপ হতে চলেছে এই ক্যানসার হাব—এমনটাই মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে ক্যানসার সচেতনতা কর্মসূচিত অনুষ্ঠানে জানা যায়, এই হাবের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০ কোটি টাকার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এসে পৌঁছেছে।

এই হাবে বসছে অত্যাধুনিক ব্র্যাকিথেরাপি (Brachytherapy) মেশিন, যা পূর্ব ভারতের কোনও সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে এই প্রথম। এই পদ্ধতিতে ক্যানসার টিউমারের খুব কাছ থেকে রেডিয়েশন প্রয়োগ করা হয়, ফলে আশপাশের সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হয়। এছাড়াও রেডিওথেরাপির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত যন্ত্র এসে গিয়েছে। এখন শুধু অ্যাটোমিক এনার্জি রেগুলেটরি বোর্ডের ছাড়পত্রের অপেক্ষা। বিশেষজ্ঞদের আশা, আগামী দু’মাসের মধ্যেই সেই অনুমোদন মিলবে।

নতুন ক্যানসার হাবে থাকবে অত্যাধুনিক রেডিওথেরাপি, উন্নত কেমোথেরাপি, এক্সপার্ট মেডিক্যাল অঙ্কোলজি—যা সরকারি ক্ষেত্রে বাংলায় এই প্রথম। এখান থেকেই চালু হচ্ছে রাজ্যের প্রথম সরকারি ক্যানসার ডে কেয়ার সেন্টার।

এছাড়াও থাকছে সম্পূর্ণ ক্যানসার-কেন্দ্রিক অঙ্কো-প্যাথোলজি বিভাগ। বায়োপসি, এফএনএসি, হিস্টোপ্যাথলজি, ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি, টিউমার মার্কারসহ ক্যানসার নির্ণয়ের সমস্ত পরীক্ষাই হবে একছাদের তলায়। ভবিষ্যতে এখানে প্যাথোলজিতে ডিএম কোর্স চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, শুধু চিকিৎসা নয়—রোগীর মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা লাঘবেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই তুখোড় সার্জিকাল অঙ্কোলজি টিমের পাশাপাশি থাকছে বিশেষ প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিভাগ। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের মানসিক চাপ, অস্ত্রোপচার পরবর্তী যন্ত্রণা ও জীবনমান উন্নয়নের দিকেও এই বিভাগে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এই নতুন ক্যানসার হাব এক যুগান্তকারী সংযোজন হতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।