মৃত্যু যেন ছাদের মাথায় ওত পেতে অপেক্ষা করছিল। ৩৩ হাজার ভোল্টের হাই-টেনশন বিদ্যুতের তারের নীচে কাজ করতে গিয়েই প্রাণ হারালেন এক রাজমিস্ত্রি। সোমবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার শাসন থানার গোলাবাড়ি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। নিহত রাজমিস্ত্রির নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি গোলাবাড়ির দাদার মোড় এলাকার একটি বহুতল নির্মাণের কাজে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়ির নির্মাণকাজ চলছিল। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হল, বাড়িটির ছাদের সামান্য উপর দিয়েই চলে গিয়েছে ৩৩ হাজার ভোল্টের হাই-টেনশন বিদ্যুতের তার, যা সম্পূর্ণভাবে নির্মাণবিধির পরিপন্থী।
সোমবার সকালে কাজের জন্য ছাদে উঠতেই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। হাইভোল্টেজ তারের সংস্পর্শে এসে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সাইফুলের। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, বহুবার প্রশাসনকে বেআইনি নির্মাণের কথা জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগের তির নির্মীয়মাণ বাড়ির মালিকের দিকেই। তাঁদের দাবি, ঝুঁকির কথা জেনেও জোর করে সাইফুলকে ছাদে কাজ করতে পাঠানো হয়েছিল। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “টাকার জোরে সব করা যায় ভেবেছে। আমরা বারবার সাবধান করেছি, কিন্তু কেউ শোনেনি। আজ একজনের প্রাণ চলে গেল।”
দুর্ঘটনার পর মৃতের পরিবার দেহ রাস্তায় রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মৃতের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব হন তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শাসন থানার পুলিশ। তবে দেহ উদ্ধারের সময় পুলিশের সঙ্গেও বিক্ষোভকারীদের বাদানুবাদ হয়। বেআইনি নির্মাণ আর প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার মূল্য কি প্রাণ দিয়েই দিতে হবে? এই ঘটনার পর ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল এই প্রশ্ন।





