পূর্ব মেদিনীপুরের এড়াফতেপুরে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘিরে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এক বেসরকারি চিকিৎসক কিশোরীকে মৃত ঘোষণা করার পর শুরু হয়ে গিয়েছিল সৎকারের সমস্ত প্রস্তুতি। কবর পর্যন্ত খোঁড়া হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সরকারি হাসপাতালের এক আইসিইউ অ্যাম্বুল্যান্স টেকনিশিয়ানের তৎপরতায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল ১৪ বছরের সেই কিশোরী। জানা গিয়েছে, পড়াশোনা সংক্রান্ত পারিবারিক অশান্তির জেরে এড়াফতেপুর গ্রামের ওই কিশোরী কীটনাশক পান করে। প্রথমে একাধিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। শেষে তমলুকের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পরিবার কাঁথিতে ফিরে এসে আর এক চিকিৎসকের কাছ থেকেও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
বাড়িতে ফেরার পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আজান পড়া হয়, মাইকে মৃত্যুসংবাদ প্রচার করা হয় এবং কবর খোঁড়ার কাজও শেষ হয়ে যায়। ঠিক সেই সময় সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ অ্যাম্বুল্যান্স টেকনিশিয়ান রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল কিশোরীর শরীরে ক্ষীণ প্রাণস্পন্দন লক্ষ্য করেন। তাঁর জোরাজুরিতেই শেষবারের মতো কিশোরীকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু হতেই ধীরে ধীরে সাড়া দিতে শুরু করে সে। টানা সাত দিন চিকিৎসার পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে কিশোরী। নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার আনন্দে কিশোরী নিজেই মালা পরিয়ে সম্মান জানায় অ্যাম্বুল্যান্স টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসকদের।
কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের সুপার অরূপরতন করণ জানান, “মানসিক কারণে ওই কিশোরী কীটনাশক খেয়েছিল। বাইরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল, এমনকি দাফনের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায়। আমাদের অ্যাম্বুল্যান্স টেকনিশিয়ানের সচেতনতায় তাকে হাসপাতালে আনা হয় এবং সাত দিনের চিকিৎসায় সে সুস্থ হয়ে উঠেছে। এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।





