সাতসকালে মাঝগঙ্গায় ভেসে এল গুলির শব্দ। খবর পৌঁছল লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে—একটি পর্যটন ক্রুজে জঙ্গি হামলা হয়েছে। একাধিক যাত্রীকে পণবন্দি করা হয়েছে। মুহূর্তে সতর্ক হয়ে ওঠে কলকাতা পুলিশ। খবর দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশের পোর্ট ডিভিশন ও কমব্যাট ব্যাটালিয়নকে। অল্প সময়ের মধ্যেই জলপথে রওনা দেন পুলিশের কম্যান্ডোরা। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি)। জল পুলিশের নৌকা নিয়ে ক্রুজটিকে ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী।
আসলে এটি ছিল মাঝগঙ্গায় জঙ্গি হামলা মোকাবিলার একটি মহড়া। এর আগেও মেট্রোরেল, শপিং মল কিংবা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন মহড়া হয়েছে। এবার সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই গঙ্গার বুকে পর্যটন ক্রুজে হামলার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এনএসজি-র একটি দল জঙ্গির ভূমিকায় নৌকা করে ক্রুজে উঠে গুলি চালানোর অভিনয় করে এবং যাত্রীদের পণবন্দি করে। এরপর ছোট জলযানে করে ক্রুজ ঘিরে ফেলে কলকাতা পুলিশ ও এনএসজি কম্যান্ডোরা। কৌশলে জঙ্গিদের চোখ এড়িয়ে ক্রুজে ওঠেন কম্যান্ডোরা। শুরু হয় গুলির লড়াইয়ের অনুশীলন। শেষে ‘জঙ্গি’দের কাবু করে মুক্ত করা হয় পণবন্দি যাত্রীদের।
মহড়ার সময় হাসপাতাল ও অন্যান্য জরুরি দপ্তরগুলিকেও আগাম সতর্ক রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই অনুশীলনের মাধ্যমে জলপথে যে কোনও সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা হল।





