Header AD

কাঁকরহীন চাল, খাঁটি গরুর দুধ! বিচারাধীন বন্দিদের খাবারে আমূল বদল, লালবাজারের নয়া ফরমান

বিচারাধীন বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করতে আদালতের লকআপে নতুন মেনু চালু করল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। লক্ষ্য একটাই—খাবারের পরিমাণের পাশাপাশি গুণমানেও যেন কোনও ঘাটতি না থাকে। সেই কারণে চাল থেকে দুধ, তেল থেকে মাছ—সবকিছুর ক্ষেত্রেই জারি হয়েছে কড়া নির্দেশিকা।

নতুন কী থাকছে মেনুতে
জেল থেকে আদালতে আনার পর বন্দিদের জন্য দিন-রাতের খাবারের পাশাপাশি প্রাতরাশ ও সান্ধ্যকালীন জলখাবারের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। আদালতের লকআপে পৌঁছনোর পর বন্দিদের গরম খাঁটি গরুর দুধ দেওয়া হবে—এমন নির্দেশও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সিটি সেশন, ফাস্ট ট্র্যাক ও এসিএমএম (২) আদালতের লকআপে এই মেনু কার্যকর হচ্ছে। ধাপে ধাপে শহরের অন্যান্য আদালতেও তা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে লালবাজার।

খাবারের ধরন (শ্রেণিভেদে)

  • প্রথম শ্রেণি: ভাত/রুটি, ডাল, তরকারি, মাছের ঝোল। মাছ না খেলে মরশুমি ফল।
  • দ্বিতীয় শ্রেণি: ভাত/রুটি, ডাল, তরকারি, মাছের ঝোল। মাছ না খেলে দুধ বা দই।
  • প্রাতরাশ: চা ও পাউরুটি।
  • সন্ধ্যা: চা ও দু’টি বিস্কুট।

প্রতিদিনের নির্দিষ্ট বরাদ্দ (প্রতি বন্দি):

  • চাল: ২৪৮ গ্রাম
  • আটা: ২৪৭ গ্রাম
  • ডাল: ১৪৫ গ্রাম
  • সবজি: ২০০ গ্রাম
  • আলু: ৫৮ গ্রাম
  • ভেলি গুড়: ১৪.৫ গ্রাম
  • মাছ: ১৪.৫ গ্রাম (একদিন অন্তর ২৯ গ্রাম দেওয়া যেতে পারে)

মান নিয়ন্ত্রণে কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির জন্য সরু চাল, দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য মাঝারি মানের চাল, কিন্তু কাঁকর বা ময়লা একদম নয়।রান্না প্রস্তুত হবে খাঁটি সরষের তেলে, টাটকা সবজি দিয়ে।মাছ হিসেবে দেওয়া হবে শুধু রুই, কাতলা বা মৃগেল।দুধ অবশ্যই খাঁটি গরুর দুধ হওয়া চাই।ডাল রান্নার আগে বেছে পরিষ্কার করতে হবে, নুন-মশলা পর্যাপ্ত দিতে হবে।গরম খাবার পরিবেশন বাধ্যতামূলক।অসুস্থ বন্দিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে দিতে হবে খাবার।এই নতুন ব্যাবস্থা লাগু হওয়ায় খরচও অনেকটাই বাড়ল।আগে আদালত লকআপে বন্দিপ্রতি খাবারের বরাদ্দ ছিল মাত্র ২ টাকা ৭৩ পয়সা। নতুন ব্যবস্থায় তা বেড়ে দাঁড়াল ৭৩ টাকা ৫০ পয়সা।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণও স্পষ্ট। অনেক সময় আদালতে হাজিরার দিনে বন্দিদের সারাদিন ঠিকমতো খাবার জোটে না। বাড়ির খাবার আনার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে। নতুন মেনু চালু হওয়ায় সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলেই আশা।