রাজ্যের মিড ডে মিল প্রকল্পে এবার পুষ্টির দিকে বাড়তি নজর। পড়ুয়াদের খাদ্যতালিকায় যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত ডিম। রাজ্যের মোট ৮১ লক্ষ ১৯ হাজার ৪১৫ জন পড়ুয়া এই সুবিধা পাবে। ‘ফ্লেক্সি ফান্ড’ ব্যবহার করে প্রতি মাসে ১২ দিন করে বাড়তি ডিম দেওয়া হবে, যা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শিক্ষা দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মিড ডে মিলের বরাদ্দ প্রাথমিক স্তরে ৭৪ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ১ টাকা ১২ পয়সা বাড়ানো হচ্ছে। সেই অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ দাঁড়ায় ৬ টাকা ১৯ পয়সা। এর মধ্যে কেন্দ্র দেবে ৩ টাকা ৭১ পয়সা। পরে ডিসেম্বরে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, তারা মাথাপিছু আরও ২ টাকা ৪৮ পয়সা দেবে। ফলে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য মোট মাথাপিছু বরাদ্দ হয়েছে ৯ টাকা ২৯ পয়সা। এর মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ৫ টাকা ৫৭ পয়সা এবং রাজ্যের অংশ ৩ টাকা ৭২ পয়সা।
পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু ভাত-ডাল-সবজি নয়, ডিম ও ফলের মতো অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার স্কুলপড়ুয়াদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যদিও মিড ডে মিলের খরচ কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে বহন করে। রাজ্য সরকার একাধিকবার বরাদ্দ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে, তবুও কেন্দ্রের তরফে বরাদ্দ খুবই সীমিত রাখা হয়েছে। এতে পুষ্টিকর খাবার তো দূরের কথা, ন্যূনতম খাবার জোগাড় করতেই সমস্যায় পড়তে হয় রাজ্যকে।
এই পরিস্থিতিতেও পড়ুয়াদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ‘ফ্লেক্সি ফান্ড’-এ বরাদ্দ ৭৫৬২.৫৩ লক্ষ টাকা থেকে যে উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে, সেখান থেকেই বাড়তি ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষক মহল।





