Header AD

শুভেন্দুর পিছনেই প্রচুর ফর্ম-৬ ভর্তি ব্যাগ ঢুকেছে কমিশনে! সাংবাদিক বৈঠকে ভিডিও দেখিয়ে দাবি তৃণমূলের   

shahsi Panja press con

ভোটমুখী বাংলায় ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং ভিনরাজ্যের বাসিন্দাদের নাম ঢোকানোর অভিযোগে সরাসরি সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সোমবার বিকেলে কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের (Manoj Agarwal) সঙ্গে দেখা করে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ জমা দেন তিনি। ঠিক একই দাবিতে আজ, মঙ্গলবার অবৈধভাবে ফর্ম ৬-এর কাগজপত্র গোপনে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে (ECI) নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও দেখিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা শ্যামপুকুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা (Sashi Panja)। তিনি দাবি করেন, ‘গতকালের অভিযোগের পরেও কমিশনের দপ্তরে কাঁড়ি কাঁড়ি, থলি থলি ফর্ম-৬ ঢুকেছে। মঙ্গলবার শুভেন্দুর অধিকারী (Shuvendu Adhikai) বেরনোর পরেই পূর্ব মেদিনীপুরের এক ব্যক্তি ব্যাগ ভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে ঢুকেছে ইসি অফিসে।’

মঙ্গলবার ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বঙ্গ রাজনীতি। ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী শশী। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরই পূর্ব মেদিনীপুরের এক ব্যক্তি ওই অফিসে প্রবেশ করেন। সেই ব্যক্তিকে নাকি হাতেনাতে ধরে ফেলেন বিএলও-রা। শশী পাঁজার কথায়, ওই ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৪০০-রও বেশি ফর্ম-৬—যা নতুন ভোটার নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যবহৃত হয়। বৈঠকে উপস্থিতদের সামনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, এটাই তাঁর অভিযোগের ‘প্রমাণ’। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও, শাসকদল এই ইস্যুতে সরব হয়েছে। শশী আরও বলেন, “যাঁরা কমিশনের দফতরে ফর্ম-৬ ঢোকানোর কাজ করছেন, তাঁরা বিজেপির ক্যাডার।”

প্রসঙ্গত কমিশনের অফিসে বস্তা বস্তা ফর্ম-৬ থরে থরে মজুত রাখা হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেই সোমবার কমিশনের দপ্তরে পৌঁছে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে তিনি সরাসরি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান এবং কমিশনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন—পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে হবে। তবে অভিযোগ ওঠার ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত সেই সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। কেন সেটা পারল না কমিশন, এই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শশী। সেইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, “বাংলায় বিহার, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানার মডেল করার চেষ্টা করছে বিজেপি। মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে খেলছে। পরাজয়ের ভয়েতেই এমন ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি।”

অন্যদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর চত্বর অবৈধ ফর্ম ৬ ঢোকানোর প্রতিবাদের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদে শামিল হন তৃণমূলপন্থী বিএলওরা। ঘটনাস্থলে  ভিড় জমান বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। দু’পক্ষের জমায়েতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ধস্তাধস্তি আটকানোর চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ এড়ানো যায়নি। পরিস্থিতি শিথিল করতে পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।