অবশেষে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। আর তার কয়েকঘণ্টা পরই বহরমপুরের সভা থেকে বিধায়ককে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সাসপেন্ড বিধায়কের নাম না করেও দলনেত্রীর তোপ, “একটা ধান পচে গেলে সরিয়ে দিতে হয়। নাহলে বাকিগুলো পচে যায়।”
বহরমপুরে সভা থেকে এদিন নিলম্বিত বিধায়ক হুমায়ুনকে (Humayun Kabir)’গদ্দার’, ‘মীরজাফর’ বলে তোপ দাগেন তিনি। মঞ্চ থেকে তাঁকে রীতিমতো তুলোধোনা করলেন তৃণমূল নেত্রী। বললেন, “শাকের বান্ডিলে একটা পচা থাকলে সেটা ফেলে দিন। একটা ধান পচে গেলে সরিয়ে দিতে হয়। নাহলে বাকিগুলো পচে যায়। কিছু পোকামাকড় থাকবেই। তাদের সরিয়ে দিলে দেশ, রাজ্য চলবে, সব চলবে।” তিনি আরও বললেন, “নির্বাচনের আগে কেউ কেউ টাকা খেয়ে বিজেপির তাঁবেদারি করে। ওরা দেশের শত্রু। বিজেপির পাল্লায় পড়ে টাকা খেয়ে নির্বাচনের ২ মাস আগে থেকে এই সব রাজনীতি করে।” পাশাপাশি তিনি এও স্পষ্ট করে দেন, এসব করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ করা যাবে না। মুর্শিদাবাদ অশান্তি চায় না। নিজের মন্তব্যে মমতা বুঝিয়ে দিলেন, হুমায়ুনকে সাসপেন্ডের কোনও প্রভাব পড়বে না আসন্ন নির্বাচনে।
তৃণমূল সুপ্রিমোর স্পষ্ট বার্তা, “আমরা সব ধর্মকে সম্মান জানাই। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে রক্ষা করতে চাই। সংবিধান আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে শিখিয়েছে৷ বাংলার মাটি স্বাধীনতা আন্দোলন করছে। সাম্প্রদায়িকতা বরদাস্ত করব না।”
দলবিরোধী মন্তব্য করে বহুবার বিতর্কে জড়িয়েছেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তৃণমূলের তরফে তাঁকে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরি সংক্রান্ত মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। তার জেরেই কড়া পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে দল। বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে ফিরহাদ হাকিম হুমায়ুনকে সাসপেন্ডের কথা ঘোষণা করেন। বলেন, “দল হুমায়ুনের সঙ্গে কোনওরকম সম্পর্ক রাখবে না।”





