ফের রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হল আর জি কর (RGKar incident) হাসপাতাল। লিফট বিভ্রাটে রোগীর পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অঘটন। এবার শ্বাসকষ্টে ভোগা এক রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে উঠল গুরুতর অভিযোগ। নিহতের পরিবারের দাবি, ট্রমা কেয়ারে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শৌচালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে রোগীর জন্য স্ট্রেচারের ব্যবস্থা করা হয়নি। বাধ্য হয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই প্রৌঢ়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের পরিষেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
রবিবার গভীর রাতে আচমকা বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন বিশ্বজিৎ সামন্ত নামে এক ব্যক্তি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন সময় আনুমানিক রাত সাড়ে তিনটে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছেলে ও স্ত্রী। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে পৌঁছনোর পর তাঁকে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এরপরই তাঁর নাক দিয়ে রক্তপাত শুরু হয় বলে দাবি। পরে চিকিৎসক একটি ড্রপ দেওয়ার পরামর্শ দেন। সেটি দেওয়ার পর সাময়িকভাবে কিছুটা স্থিতিশীল হন বিশ্বজিৎবাবু। এরপর তাঁর শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজন হলে পরিবারের সদস্যরা স্ট্রেচারের খোঁজ করেন। অভিযোগ, সেই সময় কোনও স্ট্রেচারের ব্যবস্থা ছিল না। চিকিৎসক নাকি তাঁদের ট্রমা কেয়ারের বাইরে থাকা সুলভ শৌচালয়ে রোগীকে নিয়ে যেতে বলেন বলেও দাবি পরিবারের। ওই শৌচালয়টি দোতলায় হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। পরিবারের দাবি, শৌচালয় থেকে বেরিয়ে আসার পরই আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন বিশ্বজিৎ। তিনি অচেতন হয়ে যান এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসক বাড়ির লোককে বলতে পারতেন, আমরা হাসপাতালের বেডের কাছেই শৌচকর্মের ব্যবস্থা করতে পারতাম। কিন্তু কিছু বলা হয়নি। বাইরে অসুস্থ রোগীকে সিঁড়ি ভেঙে নিয়ে যেতে হয়েছে।পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ট্রমা কেয়ার সেন্টারের চরম অব্যবস্থার জেরেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করা হয়নি বলেও অভিযোগ পরিবারের। আর জি করের মতো প্রথম সারির সরকারি হাসপাতালে কেন সামান্য স্ট্রেচারের বন্দোবস্ত হল না, স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।





