Header AD

‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন! সাহিত্যসম্রাটের প্রয়াণ দিবসে বিতর্ক উস্কে বিজেপিকে তোপ মমতার

cm malatipur

সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই প্রসঙ্গেই বাংলার মনীষীদের নাম বিকৃত করার অভিযোগ তুলে নাম না করেই বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ফের উসকে দিলেন‘বঙ্কিমদা’ বিতর্ক।

বুধবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, বাংলার শ্রদ্ধেয় মনীষীদের নাম নিয়েও ইচ্ছাকৃত বিকৃতি করা হচ্ছে। তাঁর মতে, যাঁরা বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত নন, তাঁরাই এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছেন। তাঁর কথায়, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আজ একদল মানুষ বাংলার মনীষীদের প্রাপ্য সম্মান না জানিয়ে, সস্তা রাজনীতির তাগিদে, তাঁদের অপব্যবহার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বঙ্কিমচন্দ্রের মতো বাংলার পূজনীয় মনীষীদের নাম নিয়েও বিকৃতি করা হচ্ছে। যারা বাংলার ইতিহাস জানে না, তারাই এমন করার ধৃষ্টতা দেখায়।’

উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত, যার জেরে তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও সে সময় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

এর পাশাপাশি, গত ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি বিজ্ঞপ্তি ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়। সেখানে জানানো হয়েছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-এর আগে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি, বঙ্কিমচন্দ্রের মর্যাদা তুলে ধরতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-কে খাটো করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করা হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, বঙ্কিমচন্দ্রের লেখনী পরাধীন ভারতকে আত্মমর্যাদা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছিল। “তাঁর লেখনী পরাধীন ভারতবর্ষকে আত্মমর্যাদা ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত করেছিল। আজও ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি উচ্চারিত হলে দেশের প্রতি ভালোবাসায়, শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধায় আমাদের মাথা নত হয়ে আসে। এই গান আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ – আমাদের ন্যাশনাল সং।”

শেষে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—বাংলার মনীষীরা বাঙালির গর্ব ও আবেগের প্রতীক। তাই বাংলার ঐতিহ্যকে অপমান করার চেষ্টা করলে, তার উপযুক্ত জবাব বাংলার মানুষই দেবে বলেও দাবি করেন তিনি।