Header AD
Trending

ঝালদার সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ, উন্নয়ন নিয়ে খোলা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

jhalda ab

বাঘমুন্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুশান্ত মাহাতোর সমর্থনে পুরুলিয়ার ঝালদায় নির্বাচনী সভা করতে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, গত সাত বছরে এলাকার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর (Jyotirmoy Singh Mahato) করা উন্নয়নের একটি কাজও যদি প্রমাণ করতে পারেন কেউ, তবে তিনি আর ভোট চাইতে আসবেন না। পাশাপাশি কুড়মি সমাজের দাবি নিয়ে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই সোচ্চার হয়েছে বলে এ দিন দাবি করেন অভিষেক। নিজের বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলির অন্তর্ভুক্ত করার জন্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে আবেদন জানানোর বিষয়টিও।

অভিষেকের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তাঁর দাবি, একশো দিনের কাজ, পানীয় জল প্রকল্প এবং সর্বশিক্ষা মিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে, যা বাংলার সামাজিক ঐক্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

এদিনের সভায় কুড়মি সমাজের দাবির প্রসঙ্গও তোলেন তৃণমূল নেতা। তিনি জানান, “কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছে। ” তাঁর দাবি, এই ইস্যুতে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু কেন্দ্র এখনও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। অভিষেকের বক্তব্য, ‘আমাদের সরকার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠির কপি দেখালাম। কুড়মিদের এই দাবি নিয়ে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস সোচ্চার হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব এই চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে জানানো হয়েছে, রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলি অন্তর্ভুক্ত করে আপনাদের দাবিকে যোগ্য মান্যতা দেওয়ার।’বিজেপির সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। আমি যদি মিথ্যা কথা বলি, যদি জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বা বিজেপির যে কোনও নেতা তা প্রমাণ করতে পারে, আমি ক্যামেরার সামনে বলছি, আমার বিরুদ্ধে মামলা করুক।’

পাশাপাশি, কুড়মি ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে জঙ্গলমহলে যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, সেই প্রসঙ্গেও অভিষেক বিজেপিকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের নামে বিভাজন তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, কিন্তু তৃণমূল ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, “তারা সকাল থেকে রাত অবধি মিথ্যে কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। কখনও হিন্দু-মুসলমান, আবার কখনও কুড়মি-আদিবাসীদের মধ্যে বিভাজন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা শান্তি ও ঐক্য চাই।”

বিজেপির ডবল ইঞ্জিন-কে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “পুরুলিয়ায় ওদের ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার। উপরে মোদি সরকার, মাঝে সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো আর নীচে বিজেপির বিধায়করা। কিন্তু কাজের বেলা শূন্য। গত ৭ বছরে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো হয় দিল্লিতে নয়তো রাঁচিতে থেকেছেন। মানুষের জন্য ৭ মিনিটও সময় দেননি।” আরও বলেন, “কেউ যদি দেখাতে পারে গত ৭ বছরে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর নেতৃত্বে পুরুলিয়ার একটা পঞ্চায়েত বা শহরে উন্নয়ন হয়েছে বা ১০ জন মানুষকে কেন্দ্রীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তবে আমি আর তৃণমূলের হয়ে ভোট চাইতে আসব না।”

সভা থেকে উন্নয়নের আশ্বাসও দেন তিনি। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির চড়িদা গ্রাম পঞ্চায়েতে ছৌ মুখোশের সঙ্গে ২০০-২৫০ পরিবার যুক্ত। বাঘমুন্ডির চড়িদা অঞ্চলের ছৌ মুখোশ শিল্পীদের জন্য আলাদা বাজার তৈরির কথা বলেন। এছাড়া বান্দোয়ান ও বাঘমুন্ডিতে কোল্ডস্টোরেজ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন, যাতে স্থানীয় মানুষ ও কৃষকরা উপকৃত হন।