উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতিকে ‘ম্যান মেড বন্যা’ বলে উল্লেখ করে দুর্যোগে মৃতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে পরিবারের এক জন সদস্যকে দেওয়া হবে হোমগার্ডের চাকরি। সোমবার উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে মমতা এ কথা জানিয়েছেন। অর্থসাহায্যের কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘টাকা কখনও জীবনের বিকল্প হতে পারে না। এটা আমাদের তরফ থেকে সামান্য সামাজিক কর্তব্য। মৃতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে। পরিবারের এক জনকে দেওয়া হবে স্পেশ্যাল হোমগার্ডের চাকরি।’’প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই নাগরাকাটায় পাঁচ পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতির জন্য ফের ভুটান থেকে ছাড়া জলকে দায়ী করেছেন তিনি। মাইথন, পাঞ্চেত থেকে জল ছা়ড়ায় ফের এক হাত নিয়েছেন ডিভিসিকেও।
শনিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে দার্জিলিং বিধ্বস্ত। জলস্তর বেড়ে বিপদসীমা ছাপিয়ে গিয়েছে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকার মতো নদী। বহু রাস্তায় ধস নেমেছে। ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তিস্তার জলের কারণে। রবিবার সকালে নবান্নের কন্ট্রোল রুমে বসে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক করেছিলেন উত্তরের পাঁচ জেলার জেলাশাসকের সঙ্গে। সোমবার বিমানবন্দর থেকে তিনি বলেন, ‘‘ভুটান এবং সিকিমের জলে উত্তরবঙ্গে বন্যা হয়েছে। সেই সঙ্গে ১২ ঘণ্টায় টানা ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অতি দুর্যোগের সঙ্গে ম্যান মেড বন্যা। এত জল যাবে কোথায়? আমরা বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ডের জল সহ্য করি। আর কত করব?’’
উত্তরবঙ্গে প্রথমে হাসিমারা হয়ে নাগরকাটার দিকে যাবেন তাঁর সঙ্গে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, ডিজি রাজীব কুমার। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও গৌতম দেবকে আগেই ধূপগুড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিঙের বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর সেখান থেকেই এসেছে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মিরিকের দিকে যাবেন। রবিবার বিকেলে কলকাতায় দুর্গাপুজোর কার্নিভাল ছিল। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দুর্গাপুজোয় কোটি কোটি মানুষ কলকাতায় এসেছেন। ক্লাব কমিটিগুলি ভালো কাজ করেছে। শান্তিপূর্ণ ভাবে সবটা সম্পন্ন হয়েছে। আজ (সোমবার) লক্ষ্মীপুজো। ঘরে ঘরে পুজো হয়। তা সত্ত্বেও আমাকে যেতে হচ্ছে। উৎসব তো বড় নয়, মানবিকতাই বড় কথা।”
পর্যটকদের নিরাপদে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান মমতা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের কাছে এখনও পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর হিসাব রয়েছে। তার মধ্যে ১৮ জন মিরিক-কালিম্পঙে এবং নাগরাকাটায় আরও পাঁচ জন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডায়মন্ড হারবারের এক জন এখনও নিখোঁজ। তা ছাড়া বাকি পর্যটকদের আমরা নামিয়ে আনছি। ৪৫টি ভলভো বাস এবং উত্তরবঙ্গ রাজ্য পরিবহণ দফতরের বাস দেওয়া হয়েছে। ২৫০ জনকে শিলিগুড়িতে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে।এ ছাড়াও এখনও যাঁরা আটকে আছেন, হোটলগুলোকে বলেছি তাঁদের থেকে টাকা না-নিতে। ওঁদের নামানোর দায়িত্ব আমাদের। আমাদের মানবিক হতে হবে। মিরিক ও নাগরাকাটায় কমিউনিটি কিচেন শুরু হয়েছে।’’ প্রশাসন, চিকিৎসক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অংশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তৃণমূল আই টি সেলের পক্ষ থেকে হেল্প ডেস্ক ‘ মানবিক সহায়তার দুয়ার’ খোলা হয়েছে।





