তৃণমূল থেকে এবার টিকিট পাননি ফারাক্কার বিদায়ী বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। দল থেকে টিকিট না পেয়ে ছাব্বিশের ভোটে কংগ্রেসের হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ফরাক্কার বিদায়ী বিধায়ক । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি দল থেকে সাসপেন্ড করার বার্তাও দিলেন দলনেত্রী।
রবিবার সামশেরগঞ্জের দলীয় প্রার্থী নূর আলম এবং ফরাক্কার আমিরুল ইসলামের সমর্থনে সামশেরগঞ্জে জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।সভা থেকে তিনি সাফ বললেন, ”ফরাক্কায় আমরা যাকে টিকিট দিইনি তিনি নাকি শুনেছি দাঁড়িয়েছেন। মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তাঁকে আমি আবেদন করব তিনি দলের স্বার্থে প্রত্যাহার করবেন। না করলে আমি জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও সাংসদ খলিলুর রহমানকে বলছি, দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করতে।কারণ আমার তাঁকে দরকার নেই।আমার আমিরুলকে দরকার। ”এরপরই দলীয় প্রার্থী তথা কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর সতর্কবার্তা, যারা দলে থেকে দলের বিরোধিতা করে, টিকিট দিলে ভালো, টিকিট না দিলেই বিরোধিতা করে তাদের দল রেয়াত করবে না। যে কাজ করবে, মানুষের সঙ্গে থাকবে সে টিকিট পাবে। আর যারা দলে থেকে দলকে অসম্মান করবে, তাদের ক্ষমা করা আমাদের কাজ নয়। তাহলে মানুষ আমাদের ক্ষমা করবে না।
উল্লেখ্য, টিকিট না পেয়ে ফরাক্কার বিদায়ী বিধায়ক মনিরুল ইসলাম শনিবার জঙ্গিপুর মহকুমা শাসক দপ্তরে কংগ্রেসের হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী মাহাতাব শেখের নাম ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট হয়েছে। তাই সেই জায়গায় মনিরুল ইসলাম মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যদিও আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, কংগ্রেস প্রার্থীর ভোটার তালিকায় নাম উঠলে তিনি ফরাক্কাবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে নির্দল প্রার্থী হিসাবে লড়াই করবেন।মুর্শিদাবাদে ভোট প্রথম দফায় অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ তারিখ এবং প্রত্যাহার করা যাবে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে মনিরুল ইসলামের কাছে ৯ তারিখ পর্যন্ত সময় রয়েছে।
কিন্তু জানা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হুঁশিয়ারির পরও মনিরুল মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। আর তাতেই ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা, ফরাক্কার ভোট কাটাকাটির ‘খেলা’ হতে চলেছে।





