“SIR- নিয়ে ভয় পাবেন না। কেউ আত্মহননের পথ বেছে নেবেন না। মানুষের জীবন খুব সুন্দর। নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা থাকতে আপনাদের তাড়াতে দেব না।” বনগাঁর জনসভা থেকে এভাবেই মতুয়াদের আশ্বস্ত করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই মতুয়ারা আতঙ্কে রয়েছেন। সেই আতঙ্ক কাটাতেই মঙ্গলবার বনগাঁর ত্রিকোণ পার্ক সংলগ্ন এলাকায় জনসভা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এদিনের সভা থেকে বিজেপি ও কমিশনকে ফের তোপ দেগে তিনি বলেন “বিজেপির কথায় চলছে নির্বাচন কমিশন।”
এদিনের সভা থেকে তিনি SIR- প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “এসআইআর করতে হবে না আমরা বলিনি। আমরা বলেছি কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়। এসআইআর করতে ৩ বছর সময় লাগে। আপনারা ২ মাসে করতে চাইছেন। ভোটের আগে গায়ের জোর দেখিয়ে এসআইআর করা হচ্ছে। আমাকেও সময় দিয়ে আধার কার্ড করতে হয়েছে। এখন বলছে লাগবে না। ব্যাঙ্ক, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নো আধার। আর এসআইআর হলে ইয়েস আধার।” এরপরই এসআইআর নিয়ে তাঁর দাবি, “এসআইআর আতঙ্কে ৩৫-৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে । ৩ জন বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে। ১০ জন বিএলও হাসপাতালে ভর্তি। কৃষ্ণনগরে রিঙ্কু মৃত্যুর আগে চিঠি লিখে গিয়েছে। লিখেছে আমার মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী। তাহলে SIR কার কথায় চলছে? ইন্টারনেট নেই। হোয়াটসঅ্যাপ নেই। রামের জায়গায় শ্যাম চলে যাচ্ছে। ড্রাফ্ট লিস্ট বেরলে বুঝতে পারবেন কী হয়।”
মতুয়াদের দেওয়া নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট নিয়েও তোপ দেগে তিনি বলেন , “১০০ টাকা নিয়ে মতুয়া কার্ড দিচ্ছে। আপনাদের প্রতারণা করছে, এর বড় শাস্তি হওয়া উচিত। কমিশনের নথির তালিকায় লিখতে বলুন। ওই সার্টিফিকেটে লিখে দিচ্ছে আপনি কিন্তু বাংলাদেশে ছিলেন। ম্যাপিং করছে ২০০২ সালে। সংঘের সার্টিফিকেট দিচ্ছে ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে। মানে প্রমাণ করে দিচ্ছে আপনি বাংলাদেশে ছিলেন।” এরপরই তৃণমূল নেত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “AI-কে হাতিয়ার করে কারচুপি করবে কমিশন।”
বনগাঁ বাসীর উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “আপনাদের আশ্বস্ত করতে এসেছি। ভোট চাইতে আসিনি। যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ, ততক্ষণ রাখুন বিশ্বাস”, আমার বাংলা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে।” সেই সঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপিকে তাঁর হুঁশিয়ারি “জানেন তো, জীবিত বাঘের চেয়ে আহত বাঘ বেশি ভয়ংকর। তাই আঘাত করবেন না।আঘাত করলে প্রত্যাঘাত সহ্য করতে হবে। আমাকে আঘাত করলে, সারা ভারতবর্ষ নাড়িয়ে দেব। বাংলা দখলের এত লোভ কেন?” পাশাপাশি তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, “বাংলা দখল করতে গিয়ে গুজরাট হারাবে, দেশ হারাবে। ২০২৯ বড় ভয়ংকর। ক্ষমতা হারাবে বিজেপি। “
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে বনগাঁর জনসভায় যাওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর । কিন্তু কপ্টারের ইন্সিওরেন্স জটিলতার কারণে বাতিল হয় উড়ান। এরপর সড়কপথে সভার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের বেশ খানিকটা পরে শুরু হয় তাঁর সভা। কপ্টার বিভ্রাট নিয়ে এদিনের সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “আমার আসতে দেরি হয়েছে। ক্ষমা চাইছি। আমি ৭-৮ মাস কপ্টার ব্যবহার করিনা। গাড়িতে গাড়িতে ঘুরি। আমাদের সরকারের একটা হেলিকপ্টার নেওয়া আছে। হঠাৎ খবর এল হেলিকপ্টারটা যাবে না। আমি দেখলাম দারুণ মজার খবর। ভোটই শুরু হল না, তার মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেল। একদিকে ভালোই হয়েছে রাস্তায় আসতে আসতে আমার জনসংযোগ হয়ে গেল। আমি বিজেপিকে বারবার বলি আমার সঙ্গে খেলতে যাস না। আমার সঙ্গে খেলতে গেলে আমি যে খেলাটা খেলব, ধরতেও পারবে না। ছুঁতেও পারবে না। আমার নাগালও পাবে না। ” সভা শেষে বনগাঁ চাদপাড়া থেকে মিছিলে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী।





