‘চিরন্তন সতর্কতাই স্বাধীনতার মূলমন্ত্র!’ সাধারণতন্ত্র দিবসে দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকার গ্রহণের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে দেশ তথা রাজ্যবাসীকে ৭৭ তম সাধারণতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণতন্ত্র দিবসে সংবিধান রক্ষার সঙ্কল্প নেওয়ার ডাক দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
সোমবার সকালে রেড রোডে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখেরা। ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে ভারতীয় সেনার একাধিক ব্যাটালিয়ন। চলতি বছরে রেড রোডে কুচকাওয়াজের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সেনার ভৈরব ব্যাটালিয়ন, কলকাতা পুলিশের সার্জেন্টদের বাইক, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যকে সম্মান জানিয়ে সেনার অত্যাধুনিক রকেট লঞ্চার সিস্টেম ‘সূর্যাস্ত্র’। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়ারাও।
এদিন সকালে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে রাজ্যবাসীকে সাধারণতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, ‘‘দেশের সংবিধানের মূল মূল্যবোধ— ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা এবং ভ্রাতৃত্বের প্রতি নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে।’’ পাশাপাশি, সামাজিক সম্প্রীতির দিকে এগিয়ে চলার কথাও বলে তিনি লেখেন ‘‘আজ আমার এক পুরোনো প্রবাদ মনে পড়েছে— চিরন্তন সতর্কতাই স্বাধীনতার মূলমন্ত্র। সাধারণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার স্বার্থে আজ সমষ্টিগত সতর্কতাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’’
সাধারণতন্ত্র দিবসে একই সুর শোনা গিয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে অভিষেক লেখেন , ‘‘বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব— এগুলো শুধুমাত্র শব্দ নয়, বরং আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত প্রতিশ্রুতি। এই আদর্শ ও মূল্যবোধগুলির জন্যই প্রাণ দিয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। আজ সংবিধানের উপর একের পর এক আঘাত নেমে আসছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়কে প্রান্তিক করে দেওয়া হচ্ছে। ভাষা, খাদ্য, বিশ্বাস, ভালবাসা ও মতপ্রকাশের উপরেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।’’





