শ্রীরামপুরের শ্রীরামপুর স্টেডিয়াম গ্রাউন্ডের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জনসভা চলাকালীন হঠাৎই তৈরি হল আতঙ্কের পরিস্থিতি। সভামঞ্চের লাগোয়া দর্শকাসনে আচমকাই আগুনের ফুলকি দেখা যায় । মুহূর্তের মধ্যেই উপস্থিত দর্শকদের ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ, শুরু হয় হুড়োহুড়ি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজের বক্তব্য থামিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সঙ্গে সঙ্গেই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রশাসনকে। ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য সভাস্থলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, লুজ কানেকশনের জেরে শর্ট সার্কিট থেকেই এই আতঙ্কের সূত্রপাত।
শ্রীরামপুরের জনসভায় একটি খোলা ইলেকট্রিক বক্স থেকেই স্পার্ক বেরতে দেখা যায় বলে অনুমান। সেখান থেকেই আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ে দর্শকাসনের দিকে। পরিস্থিতি আচমকা উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই নিজের বক্তব্য থামিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, “এরকম হবে কেন?” যিনি এই কাজটি করেছেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। যত দ্রুত সম্ভব সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলটি ঘিরে ফেলে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনও রকমের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। উল্লেখ্য, এর আগে বীরভূমের লাভপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছিল। তবে সেদিনও বড় কোনও বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছিল।
এদিন শ্রীরামপুরের সভায় দাঁড়িয়ে এসআইআর (SIR)নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “আমি আমার জীবন দিয়ে লড়াই করব। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি এখান থেকে চলে গিয়ে আইনজীবী হয়ে আবার প্র্যাক্টিস করা শুরু করি। শুধু মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারটা আছে বলে আমি করতে পারি না।” এসআইআর প্রসঙ্গে কমিশনকে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভোটের আগে বাংলার মানুষের নাম কাটার জন্য এই এসআইআর ষড়যন্ত্র করলেন কেন? কল্যাণ আমাকে বলছিল, হুগলি জেলায় অনেক নাম কেটেছে। আমি বললাম, শুধু হুগলি জেলায়? উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, খোদ কলকাতায়, আমার ভবানীপুর কেন্দ্রেও। মাত্র ২ লক্ষ ৫১ হাজার ভোটার ছিল। আগে কেটেছিল ৪৮ হাজার।অ্যাডজুডিকেশনেও ১৪ হাজার। তাঁদের ভবিষ্যতও আমরা জানি না। প্রায় ৬০ হাজারের কাছাকাছি। দিনহাটায় ৩৫ হাজার ভোট কেটে নিয়েছে। রাজবংশী ভোট। দেখে দেখে মুর্শিদাবাদ, মালদহ পুরো বরবাদ। ভবানীপুর কেন বরবাদ? হুগলি জেলা কেন বরবাদ? ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর কেন বরবাদ?” মমতার দাবি, ‘‘তৃণমূলের সিটগুলো দেখে দেখে নাম কেটেছে বিজেপির দলদাস কমিশন।”





