ফের SIR নিয়ে সুর চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শেষের পথে। বৃহস্পতিবার সেই আবহেই বহরমপুর স্টেডিয়ামে সভা করেন তিনি। আর সেই সভা থেকেই এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষকে অভয়বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি দিল্লির বিজেপি সরকারকেও একহাত নেন তিনি। তাঁর দাবি, “এসআইআর না করতে দিলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত বিজেপি।“ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘চালাকি’ তিনি ধরে ফেলেছেন বলেও এদিন মন্তব্য করেন তিনি। মমতা আগেই অভিযোগ করেছিলেন, এসআইআর করে আসলে এনআরসি-র পথ সুগম করা হচ্ছে। কিন্তু সেই এনআরসি তিনি এ রাজ্যে হতে দেবেন না বলে এ বার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
মালদহের পর বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে জনসভা করেন তৃণমূলনেত্রী। সেখানে এসআইআর নিয়ে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এসআইআর নিয়ে ভয় পাবেন না। শুধু নিজেদের নথিগুলো জমা দিন। যদি এসআইআর না করতে দিতাম, তা হলে ভোট না করে ওরা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত। SIR নিয়ে বিজেপির যেটুকু ছিল, সেটুকুও গেছে। সরকারি কায আটকাতে ভোটের আগে SIR করা হয়েছে।” এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন, “অমিত শাহের চালাকি? আমরা অত বোকা নই বাবুমশাই, গোদিভাই! আমরা করব, লড়ব। আমরা জিতে দেখাব। আমাদের ভাতে মারা যাবে না। সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া যাবে না।“
বাংলায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়েও এদিন সুর চড়ান তৃণমূল সুপ্রিমো। কেন্দ্রকে নিশানা করে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা বাংলায় কোথা থেকে আসবে? রোহিঙ্গা তো আসবে মণিপুর, মিজ়োরাম, ত্রিপুরা দিয়ে। সীমান্ত, আইটিবিপি, বিএসএফ, পাসপোর্ট, ভিসা— সবই তো কেন্দ্রের হাতে। এখন দোষ দিলে হবে?” এরপরই তাঁর হুঁশিয়ারি, ”শুনে রাখুন, বাংলায় এনআরসি করতে দেব না। আমার গলা কেটে দিলেও এখানে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না, কাউকে তাড়াব না। মানুষের নিরাপত্তা আমাদের দায়িত্ব।“
এসআইআর নিয়ে ধর্মের রাজনীতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা যে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সেকথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। তাঁর কথায়, “প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বর সম্প্রীতি দিবস পালিত হয়। সব ধর্মের মানুষ সেখানে অংশগ্রহণ করেন। সংখ্যাগুরুরা সংখ্যালঘুদের রক্ষা করবেন, এটাই তো নিয়ম। বাংলা সব ধর্মকে সম্মান করে। কিন্তু সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মানবে না।’’





