ভোটার তালিকা থেকে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর (Nandalal Bose) নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর স্ত্রী দীপা সেনের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে (ECI) কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সুপ্রবুদ্ধ সেনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি পরিবারের প্রতি সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশে শান্তিনিকেতনের স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর চন্দন মণ্ডল শনিবার সকালে ওই বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন এবং অভিষেকের বার্তা পৌঁছে দেন।
জানা গিয়েছে, সুপ্রবুদ্ধ সেন হলেন নন্দলাল বসুর ছোট মেয়ে যমুনা সেনের ছেলে। বর্তমানে তাঁর বয়স ৮৮ বছর। ১৯৫৪ সালে পাঠভবন থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি বিশ্বভারতীতে পড়াশোনা করেন এবং পরে ডিভিসিতে দীর্ঘ ৩২ বছর চাকরি করেন। ১৯৯৬ সালে অবসর নেওয়ার পর থেকে তিনি শান্তিনিকেতনের পৈতৃক বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এতদিন তিনি নিয়মিত ভোটও দিয়েছেন।
তবে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় দেখা যায়, সুপ্রবুদ্ধ সেন, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের পরিচারক চক্রধর নায়কের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে নথি যাচাই করেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত সম্পূরক তালিকায় দেখা যায়, তাঁদের নাম সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না বলেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও শুনানির সময় সুপ্রবুদ্ধ সেন মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট এবং চাকরির নথি জমা দিয়েছিলেন।
এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রবুদ্ধ সেন। তিনি বলেন, “এই বয়সে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ব ভাবিনি। শান্তিনিকেতনেই বড় হয়েছি। আমার দাদু দেশের সংবিধান অলঙ্করণ করেছেন, আর আজ তাঁর নাতিকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না—এটা ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে।”





