৩১ মার্চ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট, গত বছরের তুলনায় মোট কর আদায় বেড়েছে কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation Tax)। বিশেষ করে সাউথ ডিভিশন ও সংযুক্ত ওয়ার্ডগুলিতে আদায়ের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী থেকেছে, যা পুরসভার আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে সেই সাফল্যের ধারায় ছেদ পড়েছে নর্থ ডিভিশনে। প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি এই অংশ, ফলে সামগ্রিক উন্নতির মাঝেও থেকে গেছে কিছুটা হতাশার সুর। সম্পত্তি কর আদায়ে এবারের অর্থবর্ষে মিশ্র ছবি সামনে এসেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি কর আদায়ের ছবিতে যেমন সামগ্রিক বৃদ্ধি ধরা পড়েছে, তেমনই উঠে এসেছে অঞ্চলভেদে বৈষম্যও। পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মার্চ পর্যন্ত মোট সম্পত্তি কর আদায় হয়েছে ১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা, যা গত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের ১ হাজার ২৬০ কোটির তুলনায় প্রায় ৩৭ কোটি টাকা বেশি। তবে এই বৃদ্ধির মাঝেও পিছিয়ে পড়েছে নর্থ ডিভিশন। গত অর্থবর্ষে যেখানে এই ডিভিশন থেকে ৩০৩ কোটির বেশি রাজস্ব এসেছিল, সেখানে এবারে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ২৯৯ কোটিতে—প্রায় চার কোটি টাকা কম। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে নর্থ ডিভিশন। অন্যদিকে, সাউথ ডিভিশন ও সংযুক্ত ওয়ার্ডগুলিতে কর আদায়ের হার ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে বেহালা অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গত অর্থবর্ষে বেহালা থেকে ৬৭ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা আদায় হলেও, এবারে তা বেড়ে হয়েছে ৭৪ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা—প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি। পুরসভার পদস্থ আধিকারিকদের মতে, করদাতাদের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাওয়ার উদ্যোগের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
আর্থিক চাপে থাকা কলকাতা পুরসভা এবার সম্পত্তি কর আদায়ে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে। পুরসভার সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ করে বেহালা অঞ্চলে বকেয়া কর আদায়ের উপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি বহু নতুন সম্পত্তিকে করের আওতায় আনা হয়েছে। শুধু নোটিশেই থেমে থাকেনি উদ্যোগ—কর্মীরা সরাসরি করদাতাদের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছেন, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আদায়ে। পুরকর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—কোষাগারের ঘাটতি সামাল দিতে রাজস্ব বৃদ্ধি। সেই লক্ষ্যে পদস্থ আধিকারিকরাও সরাসরি মাঠে নেমে পড়েন। একদিকে যেমন বকেয়া কর আদায় জোরদার করা হয়েছে, অন্যদিকে করের বাইরে থাকা সম্পত্তিগুলিকে চিহ্নিত করে করের আওতায় আনার জন্য একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে। এই সমন্বিত উদ্যোগের ফল মিলেছে সাউথ ডিভিশনেও। এবারের অর্থবর্ষে সেখানকার রাজস্ব আদায় সন্তোষজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পুরসভার আর্থিক পরিস্থিতি কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।
সাউথ ডিভিশনে এবারের অর্থবর্ষে সম্পত্তি কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ধরা পড়েছে। ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই ডিভিশন থেকে রাজস্ব এসেছে ৫৫২ কোটি টাকা, যেখানে গত অর্থবর্ষে তা ছিল ৫২৮ কোটি। অর্থাৎ, এক বছরে ২৪ কোটি টাকার বৃদ্ধি হয়েছে। তবে সব অঞ্চল একই সুরে এগোয়নি। গার্ডেনরিচে গত বছরের নজিরবিহীন ১২ কোটি টাকার তুলনায় এবারে আদায় কমে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটিতে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, গত বছর গার্ডেনরিচ শিপিং বিল্ডার্সকে ইউনিট এরিয়া ট্যাক্সের আওতায় আনার ফলেই হঠাৎ করে রাজস্বে বড় উল্লম্ফন দেখা গিয়েছিল, যা এবারে স্বাভাবিক স্তরে ফিরেছে।
অন্যদিকে, যাদবপুর অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। বরো ১১ ও ১২ মিলিয়ে এবারে ১৫১ কোটিরও বেশি সম্পত্তি কর আদায় হয়েছে, যা গত অর্থবর্ষের ১০৬ কোটির তুলনায় অনেকটাই বেশি। টালি ট্যাক্স ও জোকা অঞ্চল থেকেও স্থিতিশীল বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। জোকা থেকে এবারে ৪৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১ কোটি বেশি। একইভাবে, টালি ট্যাক্স থেকে রাজস্ব বেড়ে হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা, যেখানে গতবার তা ছিল ১৫৫ কোটি।





