চলতি মাসের শেষেই রাজ্যে ভোট। আবহাওয়ার মতোই বাংলার (Election in Bengal) ভোটের হাওয়াও ক্রমশ গরম হচ্ছে। এই আবহে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে, তা খতিয়ে দেখতে ময়দানে নামছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল (Manoj Kumar Agarwal)। শনিবার থেকেই শুরু হচ্ছে তাঁর জেলা সফর। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় প্রশাসনিক দপ্তর পরিদর্শন করবেন তিনি। বুথ প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কর্মী মোতায়েন থেকে শুরু করে ভোট পরিচালনার খুঁটিনাটি দিক—সবকিছুই সরেজমিনে যাচাই করবেন সিইও। শুধু পরিদর্শনই নয়, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকেও বসবেন তিনি। কোথাও কোনও ঘাটতি রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়াই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
কমিশন সূত্রে খবর, শনিবারই জেলা সফরের সূচনা করছেন সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল। প্রথম গন্তব্য পূর্ব মেদিনীপুর। সেখান থেকেই রাজ্যজুড়ে ভোট প্রস্তুতির বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখা শুরু হবে। জেলায় পৌঁছে নির্বাচনের সামগ্রিক ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবেন তিনি। কোথায় কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, বুথগুলির অবস্থা কেমন, ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ কতটা এগিয়েছে—সব দিকই খুঁটিয়ে দেখা হবে। বিশেষ নজর থাকবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরও। কমিশনের গাইডলাইন মেনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রাখা হয়েছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করবেন সিইও। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই। ধাপে ধাপে সব জেলায় পৌঁছে নির্বাচনী প্রস্তুতির খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করবেন তিনি।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে জারি হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। একাধিক কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। ভোট ঘোষণার দিনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন—বাংলায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই লক্ষ্যে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেছিলেন তিনি। এই প্রেক্ষিতেই রাজ্যের জেলায় জেলায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রশাসনিক প্রস্তুতি থেকে নিরাপত্তা—সব দিক খতিয়ে দেখে নির্ভুল ও শান্তিপূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলায় ভোটের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘোষণার দিন থেকেই রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। অন্যবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হয়েছে রাজ্যে। পয়লা মার্চ থেকেই বাংলায় পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার জন্য ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিও থাকবে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে চাইছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। তাঁর জেলা সফরের অন্যতম উদ্দেশ্যই হল এই নিরাপত্তা প্রস্তুতির বাস্তব চিত্র যাচাই করা।
প্রসঙ্গত, এসআইআর-কে (SIRinBengal) কেন্দ্র করে মোথাবাড়ি কাণ্ডের জেরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, যার প্রভাব সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। নিজেদের নিয়োগ করা প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে কমিশনকে। আদালতের নির্দেশে মালদহের ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেছেন। সেই বৈঠকের পরই জেলায় জেলায় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ থেকেই মাঠে নামছেন মনোজ, যাতে কোনওভাবেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ত্রুটি না থাকে।





