মুর্শিদাবাদের মানুষ দাঙ্গা পছন্দ করেন না, দাঙ্গার রাজনীতি করেন না। এমনকি ২০০৬ সালের ৬ ডিসেম্বর, যে দিনটা আমরা গত ৩৩ বছর ধরে আমরা সম্প্রতি দিবস হিসাবে পালন করছি, সেই দিনও মুর্শিদাবাদে দাঙ্গা হয়নি। নিয়ম তো এটাই সংখ্যাগুরুরা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেবে। সব ধর্মকে আমরা শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমরা সাম্প্রদায়িকরা বিরুদ্ধে- সে যাই হোক।” বৃহস্পতিবার বহরমপুরের সভা থেকে এ কথা বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মাস কয়েক আগে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে অশান্তির ঘটনা নিয়ে এদিন বলতে গিয়ে নাম না করেই বিজেপিকেও হুঁশিয়ারি দিলেন নেত্রী।
গত এপ্রিলে ওয়াকফের বিরোধিতায় অশান্ত হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার একাধিক এলাকা। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে এদিনের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “ধুলিয়ানে একটা ঘটনা ঘটেছিল। আমি নিজে এসেছিলাম। জঙ্গিপুরে একটা ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। সেই সময় জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। স্থানীয় কাউন্সিলরকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে বলেছিলাম, সংখ্যালঘু ভাই-বোনেদের বলেছিলাম , তোমরা রক্ষা করো, যাতে হিন্দুদের ওপর কোনও অত্যাচার না হয়। নিয়ম তো এটাই সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘুরা একে অন্যকে রক্ষা করবে। এই বাংলা সম্প্রীতির বাংলা। আমরা সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করি। আমরা সাম্প্রদায়িকতাকে সম্মান করিনা।”বুধবার গাজোলের সভার পর বৃহস্পতিবার বহরমপুর স্টেডিয়ামের সভা থেকে সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নাম না করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে বিঁধেছেন তৃণমূল নেত্রী। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এদিন বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদের ইতিহাস আমরা ভুলতে পারিনা। এখানে সিরাজউদ্দৌল্লা ঘরে ঘরে পূজিত হন। এই জেলা নবাবদের জেলা। সব ধর্মের তীর্থস্থান আছে এই জেলায়। পলাশিতে বাংলার সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছিল। সিরাজউদ্দৌলা মিরজাফরের মাথায় মুকুট তুলে দিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু মিরজাফর তা করতে দেননি। সিরাজকেই সকলে মনে রেখেছেন। মুর্শিদাবাদের মানুষ দাঙ্গার রাজনীতি মানবে না।” এরপরই সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে তাঁর হুঁশিয়ারি , “যারা সাম্প্রদায়িকতার রক্তে হোলি খেলছে, তাদেরও সতর্ক করছি।”
এদিনের সভা থেকে এসআইআর নিয়ে ফের সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যে সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় নেই, সেখানেই কেন ভোটের আগে এসআইআর হবে? অসম, ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সীমান্ত নেই? সেখানে কেন এসআইআর হবে না? বিজেপি ক্ষমতায় আছে বলে? বিজেপি বাংলাবিদ্বেষী। বাংলা ও বাঙালিকে নিশানা করছে ওরা। পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। কেউ বাংলায় কথা বললেই ভিন্রাজ্যে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের মানুষের অন্যতম সমস্যা নদী ভাঙন নিয়েও এদিন সরব হন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, ফরাক্কায় আজও ড্রেজ়িং হয়নি। যার জন্য মানুষ ভুগছেন। মুর্শিদাবাদ ও মালদহ— দুই জেলাতেই আমরা নদী ভাঙন রোধের জন্য ১৫০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা কেন্দ্রকে পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনও উত্তর পাইনি।” কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধেও এদিন ফের মুখ খোলেন তিনি। বলেন, ” ১০০ দিনের টাকা বন্ধ, জলের টাকা বন্ধ, বাংলার বাড়ির টাকা বন্ধ। তবু আমরা নিজেদের টাকায় ১৮৯টি কাজ সম্পন্ন করেছি। ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয় করে নদীভাঙন রোধে ১৭টি প্রকল্প চালু হয়েছে। বরাদ্দ হয়েছে ২০০ কোটি টাকা।”





