ভোটের আগে কড়াকড়ি বাড়তেই ফের নগদ টাকা উদ্ধার খাস কলকাতা শহরে। এবার উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস কী, কোথা থেকে তা আনা হচ্ছিল এবং কার হাতে পৌঁছনোর কথা ছিল—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল। আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য খতিয়ে দেখে সম্ভাব্য বড় কোনও চক্রের সন্ধান মিলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। ভোটের আগে শহরজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নাকাতল্লাশি। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চলছে নিয়মিত। শুধু কলকাতাতেই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও একইভাবে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের খবর মিলছে। নির্বাচনকে ঘিরে অবৈধ অর্থ লেনদেন রুখতেই এই কড়া নজরদারি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী, এসএসটি টিম এবং বড়তলা থানার পুলিশ একযোগে বিভিন্ন গাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল। সকাল প্রায় ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ শ্যামবাজারে একটি গাড়িকে আটক করা হয়। গাড়িতে থাকা দুই যাত্রীর আচরণে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। এরপরই শুরু হয় বিস্তারিত তল্লাশি—আর সেখানেই সামনে আসে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন করে চাঞ্চল্য। তল্লাশির সময় গাড়িতে থাকা দুই যাত্রীর কাছ থেকে একটি কালো রঙের চামড়ার ব্যাগ উদ্ধার হয়। ব্যাগটি খুলতেই চোখে পড়ে কারি কারি নগদ—সবই ৫০০ টাকার নোটে ভর্তি। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বিষয়টি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় শ্যামবাজার এলাকায়। এরপরই ওই দুই যাত্রীকে আটক করেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই বিপুল পরিমাণ টাকার কোনও বৈধ রশিদ বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ফলে তাঁদের থানায় নিয়ে গিয়ে বিস্তারিত জেরা শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক হওয়া দু’জনের নাম সাজিদুর রহমান এবং বিবেক ওঝা। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ মোট ১৯ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা, এবং প্রতিটি নোটই ৫০০ টাকার। জানা গিয়েছে, সাজিদুর রহমানের বাড়ি কালিগঞ্জ থানার অন্তর্গত জানকীনগর এলাকায়। এই বিপুল নগদের উৎস ও গন্তব্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুরো ঘটনার সঙ্গে কোনও বড় চক্র জড়িত কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিবেক ওঝার বাড়ি হাওড়ার সালকিয়ায় অবস্থিত। ওই টাকা বাজেয়াপ্তের সময় শ্যামপুকুর ১৬৬ বিধানসভা কেন্দ্রের নোডাল অফিসার শিবব্রত রায়ও উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কলকাতার বেহালায় একটি ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। এক সংস্থার কর্তার বাড়ি থেকে নগদ এক কোটির বেশি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তদুপরি, বাংলা-অসম সীমান্তে নাকাতল্লাশি অভিযান চালিয়ে আরও বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে।





