বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে শেষ হল SIR এর কাজ। এদিন রাত ১২টা বাজার পর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে বন্ধ করে দেওয়া হল প্রক্রিয়া। এরপর থেকে আর SIR সংক্রান্ত কোনও কাজ করা যাবে না। এর মধ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী খসড়া তালিকা থেকে কতজন ভোটারের নাম বাদ পড়ছে এবং কতজনকে ডাকা হতে পারে শুনানিতে এই সব কিছুর পরিসংখ্যানের একটা ইঙ্গিত দিল নির্বাচন কমিশন। সেই সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গে বাদ পড়তে চলেছে প্রায় ৫৮ লক্ষ ৮ হাজার ২৩২ জনের নাম। যদিও এই পরিসংখ্যানে সামান্য বদল ঘটতে পারে বলে আপাতভাবে মনে করছে কমিশন।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া তালিকা। রাজ্যে রয়েছেন মোট ৩০ লক্ষ ভোটার। এর মধ্যে যাঁদের নিজেদের নাম বা আত্মীয়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই তাঁরা নন-ম্যাপিং তালিকাভুক্ত হবেন। এই তালিকায় থাকা সকলকেই ডাকা হতে পারে শুনানিতে। এরপর তাঁদের যথাযথ নথি ও তথ্য যাচাই করে দেখার পর ভোটার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও এনুমারেশন ফর্মে কোনও তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধনের কাজ শেষে দিল্লির নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। এরপর হতে পারে ভোট ঘোষণা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫৮ লক্ষের মধ্যে মৃত ভোটার ২৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৯৯জন। এছাড়াও নিখোঁজের সংখ্যা ১২ লক্ষ ১ হাজার ৪৬২ জন এবং স্থানান্তরিত হয়েছেন ১৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮৭ জন। ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৭৫ জন ও অন্যান্য কারণে বাদের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৫০৯ জন। কমিশনের তরফে জানা গিয়েছে, ফর্ম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যে প্রোজেনি ম্যাপিংয়ের ( যাঁরা বাবা-মা অথবা ঠাকুরদা-ঠাকুরমার নামের সাহায্য নিয়ে নিজেদের ফর্ম ম্যাপিং করিয়েছেন) হার ৫০.১৮ শতাংশ এবং সেলফ ম্যাপিংয়ের (যারা নিজেরা করিয়েছেন) হার ৩৮.৩৩ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার সকালে ২৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি এজেন্সির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। উপস্থিত ছিলেন বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত-সহ কমিশনের শীর্ষকর্তারা। রাজ্যে নির্বাচনের আগে নিয়মিত নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রস্তুতি নিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ ঝালিয়ে নিতেই এই বৈঠক।





