রবিবার মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এবং জিয়াগঞ্জে পর পর দু’টি জনসভা করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।দুই সভা থেকেই এসআইআর, ভিন্ রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগে বিজেপিকে তুলোধনা করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে জিয়াগঞ্জের সভা থেকে মুখ খুলেছেন ভবানীপুরে অশান্তির ঘটনা নিয়েও।
ভবানীপুরে অমিত শাহের উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার রোড শো-তে অশান্তি নিয়ে এদিন সরব হন মমতা। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসা হয়েছিল, তারাই অশান্তি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘ভবানীপুরে আমার বাড়ির সামনে হামলা হল। আমার পোস্টারে থুতু দিচ্ছিল। অভিষেকের বাড়ির দিকে জুতো দেখাচ্ছিল। স্থানীয় লোকজনরাই এর প্রতিবাদ করেছে। এটা রাজনীতি নয়। মনোনয়ন দিতেও ওরা বাইরের লোক নিয়ে এসেছিল।’’
এই কথার সূত্র ধরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর আচার আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর সতর্কবার্তা, ‘‘কাল ভবানীপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনী অসভ্যতা করেছে। এক মহিলাকে আপত্তিকর ভাবে চেক করেছে। সাবধানে থাকবেন।’’
এদিনের সভা থেকে এসআইআর-এ মুর্শিদাবাদের মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ফের কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও কমিশনকে একযোগে নিশানা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মমতা বলেন, ‘‘শুধু মুর্শিদাবাদের মানুষের ভোটাধিকারই কাটছে না। আমার নিজের কেন্দ্রেও, যেখানে আমি নিজে প্রার্থী, সেখানেও ৪০ হাজার মানুষের নাম বাদ দিয়েছে।’’ ৫০ শতাংশ মুসলমানের সঙ্গে ৫০ শতাংশ হিন্দুর নামও বাদ গিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন মমতা। জানান, যে ভোটারদের অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে এবং নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের ভোটেই গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতেছে। তাই একই যুক্তিতে মোদী ও শাহেরও পদত্যাগ করা উচিত।
প্রসঙ্গত মুর্শিদাবাদের বহু মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে বাংলার বাইরে ভিনরাজ্যে কাজ করেন। তাই এদিনের সভায় বাংলার বাইরে পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার ঘটনা নিয়ে সরব হন তিনি।তাঁর কথায়, ‘‘বিজেশিশাসিত রাজ্য থেকে এসে দে়ড় কোটি পরিযায়ী শ্রমিক পশ্চিমবঙ্গে কাজ করেন। আমরা কাউকে কিছু বলি না। কিন্তু এখান থেকে বাইরে কাজ করতে গিয়ে বাংলা বললে অপমান করে। এই বিজেপি সরকার চিরকাল থাকবে না। বাংলার মানুষের কাছে ভোট চান কোন মুখে?’’
মুর্শিদবাদের জিয়াগঞ্জের সভা থেকে ফের একবার তিনি ঘোষণা করলেন ২৯৪টি আসনে তিনিই প্রার্থী। বললেন, ‘‘তৃণমূলের যে প্রার্থীকেই ভোট দেবেন, ভোটটা আমি পাব।’’





