কিছুদিন আগেও মিটিং-মিছিলের মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতেন প্রতীক উর রহমান (Prateek Ur Rahman)। তাঁর ঝাঁঝালো বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি। এমনকি বাম শিবিরে থাকাকালীন সরকার ভেঙে দেওয়ার দাবিও তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের স্রোতে বদলে গেল রাজনৈতিক অবস্থান—বর্তমানে তিনি বাম শিবির ছেড়ে তৃণমূলের সৈনিক। এবার সেই প্রতীক উর রহমানকেই দলের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দিল তৃণমূল।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাম নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে সিপিএম ছাড়েন প্রতীক উর রহমান। এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হাত ধরে যোগ দেন তৃণমূলে (Trinamool Congress)। রাজনৈতিক মহলে তখন জল্পনা ছিল, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে। যদিও সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি। এর মধ্যেই নতুন দায়িত্ব পেলেন প্রতীক। তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক না করলেও বিভিন্ন ইস্যুতে দলের হয়ে বক্তব্য রাখবেন তিনি। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর অবস্থানের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছিল—নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছবি পোস্ট করা থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রশংসা করা—সবই ছিল সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে বাম রাজনীতিতে যুক্ত হন প্রতীক। দলের ভালো সময় যেমন দেখেছেন, তেমনই দুঃসময়ে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন লাল পতাকা। ধীরে ধীরে তিনি বাংলার সিপিএমের তরুণ নেতৃত্বের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। প্রায় প্রতিটি আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। একাধিক নির্বাচনে প্রার্থীও করেছে দল, পাশাপাশি জেলা ও রাজ্য কমিটিতেও জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এতো কিছুর পরই দলীয় নেতৃত্বের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট ছিলেন তিনি। সেই কারণেই দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন।
এবার আনুষ্ঠানিকভাবে মুখপাত্রের দায়িত্ব পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে—যিনি একসময় তৃণমূলের কড়া সমালোচক ছিলেন, তিনিই এখন দলের হয়ে জনমত গঠনের মুখ হয়ে উঠছেন।





