হাড়হিম করা ঘটনা হাওড়ায়! তিনমাসের নাতিকে জলে ডুবিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল ঠাকুমার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ডোমজুড় থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ঠাকুমা। শুরু হয়েছে তদন্ত। জানা গিয়েছে, পুলিশের জেরার মুখে পড়ে ঠাকুমা স্বীকার করেছেন যে নাতিকে জলে ফেলে খুন করেছেন তিনি। মাত্র তিনমাসের সন্তানকে এভাবে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা। ঠাকুমার এই ‘নৃশংসতা’ দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন প্রতিবেশিরা।
সূত্রের খবর, ডোমজুড় থানা এলাকার পিরডাঙা এলাকার বাসিন্দা মৃত শিশুর পরিবার। প্রতিবেশিরা জানান, শিশুর বাবা অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় রাত্রিকালীন কাজ (নাইট ডিউটি) করেন। রাতে শিশুপুত্রকে নিয়ে যাতে একা না থাকতে হয়, তাই গৃহবধূ ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের মাকে বাড়িতে এনে রেখেছিলেন। রবিবার এক বিশেষ কাজের জন্য নিজের বাড়ি চলে যান ময়নাদেবীর মা। সেই কারণে ময়নাদেবীর শাশুড়ি অর্থাৎ অভিজিৎবাবুর মাকে নিয়ে আসেন। ঠাকুমা সারিথী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একরাত ঘুমিয়েছিল ৩ মাসের ওই শিশু। পরের দিনই ঘটে নৃশংস এই ঘটনা।
মঙ্গলবার ভোরে ময়নাদেবী প্রাত:কর্ম সেরে ঘরে ফিরে দেখেন, বিছানায় তাঁর সন্তান নেই। বিছানা ফাঁকা দেখেই চিৎকার করে ওঠেন তিনি। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা জড়ো হন বাড়ির সামনে। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। এরপর প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পর এলাকার একটি পুকুরে ওই শিশুর দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। দ্রুত খবর দেওয়া হয় ডোমজুড় থানার পুলিশকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শিশুর দেহ উদ্ধার করে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বাঁচানো যায়নি তিনমাসের শিশুটিকে। এই ঘটনায় শিশুর ঠাকুমার দিকেই ওঠে সন্দেহের তির। শিশুর মা এবং প্রতিবেশিদের চাপের মুখে পড়ে ঠাকুমা সারিথী বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন যে নাতিকে তিনিই জলে ফেলে দিয়েছেন। এমনটাই দাবি স্থানীয়দের। তবে কেন তিনি এই কাজ করলেন তা এখনও পরিষ্কার নয়।





