নন্দীগ্রাম—যা একসময় তৃণমূল (Trinamool Congress) নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর (Mamata Banerjee) রাজনৈতিক কর্মভূমি হিসেবে পরিচিত ছিল—২০২১ সালের নির্বাচনে তা হাতছাড়া হয়েছিল শাসকদলের। তবে ২০২৬-এর ভোটকে (West Bengal Assembly Election)সামনে রেখে সেই কেন্দ্র পুনরুদ্ধারে এবার কোমর বেঁধে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই লক্ষ্যেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) একটি সুপরিকল্পিত রণকৌশল তৈরি করেছেন, যার সূচনা হয়েছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই।
ভোট ঘোষণার পর প্রচারের শুরুতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র কেন্দ্রে প্রচারে নামছেন অভিষেক। তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁর মার্চ মাসের প্রচারসূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২৪ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থেকে তিনি প্রচার অভিযান শুরু করবেন। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই জেলার মাটি থেকেই তিনি প্রচার শুরু করে আসছেন, কারণ এটি তাঁর সাংসদ এলাকা।
পরের দিনই অর্থাৎ ২৫ মার্চ তিনি যাবেন নন্দীগ্রামে। তার আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর, কেশিয়াড়ি এবং নারায়ণগড় বিধানসভায় জনসভা করার কথা রয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি নন্দীগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল নন্দীগ্রাম। এবারে নিজের কেন্দ্রের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরেও প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। লক্ষ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের কেন্দ্রে আটকে রাখা। পাল্টা হিসেবে অভিষেক চান, শুভেন্দুকে তাঁর ঘরের মাঠেই চ্যালেঞ্জ জানাতে।
নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা পবিত্র কর, যিনি একদা শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। প্রার্থী ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে অভিষেকের হাত ধরেই দলে যোগ দেন পবিত্র।
শোনা যাচ্ছে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কৌশলগত ভাবনাতেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে, যাতে হিন্দু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলা যায়।একদিকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চল, অন্যদিকে নতুন প্রার্থী—সব মিলিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে নন্দীগ্রামে লড়াইয়ে নামছে তৃণমূল। দলের বিশ্বাস, সঠিকভাবে জনসংযোগ করতে পারলেই এই কেন্দ্রে জয় সম্ভব।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জানুয়ারি মাস থেকেই নন্দীগ্রামে জনসংযোগ শুরু করেছিলেন অভিষেক। তাঁর ‘সেবাশ্রয়’ মডেলের স্বাস্থ্য শিবির সেখানেই চালু করা হয়, যা নানা বাধা সত্ত্বেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই উদ্যোগ স্থানীয় কর্মীদেরও উৎসাহিত করে, যার ফলশ্রুতিতে একাধিক সমবায় নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল।
সব মিলিয়ে, সংগঠিত পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক জনসংযোগের মাধ্যমে নন্দীগ্রাম পুনর্দখলে আশাবাদী শাসকদল।





