রামনবমীর দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অশান্তির ঘটনার খবর সামনে আসতেই প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্বাচন ঘোষণার পর একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিককে বদলি করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তারপরও কেন রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে, এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India) যে ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদল করেছে, তা নজিরবিহীন। এই পরিবর্তনের আওতায় মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি থেকে শুরু করে কলকাতা পুলিশ কমিশনার ও পুর কমিশনার পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদল আনা হয়। অভিষেকের মতে, এই হস্তক্ষেপের সময় ও উদ্দেশ্য নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, ‘এই রদবদলের পরই রাজ্যে ভীতি ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং অশান্তির ঘটনা বাড়ছে।’
শুক্রবার মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ এলাকায় রামনবমীর মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি গুরুতর জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি এলাকায় ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের অভিযোগ, ‘দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে, ধর্মের নামে উত্তেজনা ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হচ্ছে।’ তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের কোনও ‘বুলডোজার মডেল’ বা বাইরে থেকে আমদানি করা হিংসার রাজনীতির প্রয়োজন নেই।’
অভিষেক আরও দাবি করেন, বাংলায় বরাবরই বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়ে এসেছে। কোনও ক্ষেত্রেই কোনও হিংসার ঘটনা ঘটে না। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ সেই চিত্রকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘গত মাত্র কয়েকটা দিনের মধ্যেই আমরা সেই ‘পরিবর্তন’-এর এক উদ্বেগজনক ঝলক দেখতে পাচ্ছি, যা বিপ্লবীদের এই পুণ্যভূমিতে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতির পরিবেশকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’





